যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির কাছে কয়েকটি সাদা ভ্যান নিয়ে একদল ব্যক্তির সন্দেহজনক তৎপরতা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে সেখান থেকে সব বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পেছনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নির্দেশনা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ঘটনার দিন স্থানীয় এক কৃষক ঘাঁটির কাছে কয়েকটি সাদা ভ্যানসহ একদল ব্যক্তিকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখেন। তার খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাছের একটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সবাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। ভ্যানগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে কিছু পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ঘটনাটি ইরান থেকে সমন্বয় করা হয়েছে বলে প্রবল ধারণা রয়েছে। এর নির্দেশনায় ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ছিল।
তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে এমন হুমকি সহ্য করা হবে না। ইরানের অপরাধী নেটওয়ার্ক ও অর্থায়নের উৎসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, বিদেশে হামলার পরিকল্পনা বা তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে আগেই রাষ্ট্রীয় হুমকিসংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
তবে বিমানঘাঁটিতে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের হামলার আশঙ্কা ছিল, তা এখনো স্পষ্ট করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
মতামত