ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

লজ্জাশীল হতে হবে ইমানদারকে



লজ্জাশীল হতে হবে ইমানদারকে
লজ্জাশীল হতে হবে ইমানদারকে

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ইমান। ইমানের অনেক শাখাপ্রশাখা আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো লজ্জা। যার লজ্জা আছে তার ইমান আছে; যার লজ্জা নেই তার ইমানও নেই।

এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) হতে বর্ণিত-‘রসুল (সা.) বলেছেন, ইমানের ষাটেরও অধিক (কোনো কোনো বর্ণনায় সত্তরের অধিক) শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ইমানের একটি শাখা।’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-৯; মুসলিম : হাদিস-৩৫, আহমাদ-৯৩৭২)।

আরেক  হাদিসে এসেছে-‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রসুল (সা.) এক আনসারির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নসিহত করছিলেন। আল্লাহর রসুল (সা.) তাঁকে বললেন-ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ইমানের অঙ্গ।’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-২৪, ৬১১৮, মুসলিম : হাদিস-৩)।

আরও অনেক হাদিস দ্বারা লজ্জা ইমানের অঙ্গ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। মনে রাখা দরকার, ইমানের আরও বিভিন্ন স্তর আছে। সেগুলোও একজন মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) হতে বর্ণিত-‘আল্লাহর রসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। প্রশ্ন করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, কবুল হজ সম্পাদন করা।’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-২৬, ১৫১৯; মুসলিম : হাদিস-৮৩)।

আরেকটি হাদিসে ইমান ও ইসলামের পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত-‘একদা আল্লাহর রসুল (সা.) জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন-ইমান কী? তিনি বললেন, ইমান হলো আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, (কিয়ামতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রসুলদের প্রতি। আপনি আরও বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন-ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম হলো আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করবেন না, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, জাকাত আদায় করবেন এবং রমজানের সিয়ামব্রত পালন করবেন। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন-‘ইহসান কী? তিনি বললেন, আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন) তিনি আপনাকে দেখছেন। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন-‘কিয়ামত কবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতগুলো বলে দিচ্ছি-বাঁদি যখন তার প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (কিয়ামতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। অতঃপর আল্লাহর রসুল (সা.) এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করলেন-কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই নিকট ... (সুরা লুকমান : আয়াত-৩১-৩৪)। এরপর ওই ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেন, তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন। তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ইনি জিবরাইল (আ.)। লোকদের তাদের দীন শেখাতে এসেছিলেন। আবু আবদুল্লাহ বুখারি (রহ.) বলেন, আল্লাহর রসুল (সা.) এসব বিষয়কে ইমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’ (বুখারি : হাদিস-৫০, ৪৭৭৭; মুসলিম : হাদিস-৯)।

আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো কোনো মুসলমানের মধ্যে সামান্য পরিমাণও যদি ইমান থাকে, আল্লাহ তাকে একদিন না একদিন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ইমান থাকলেও সে জান্নাতে যাবে। এ বিষয়ে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত-‘রসুল (সা.) বলেছেন, বেহেশতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহতায়ালা মালাইকাদের (ফেরেশতাদের) বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ইমান আছে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনো। তারপর তাদের জাহান্নাম থেকে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (রহ.) শব্দ দুটির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন] নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে ওঠে। তুমি কি দেখতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের হয় ও ঘন হয়ে গজায়?’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-২২; মুসলিম : হাদিস-১৮৪)।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।

♦ লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


লজ্জাশীল হতে হবে ইমানদারকে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ইমান। ইমানের অনেক শাখাপ্রশাখা আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো লজ্জা। যার লজ্জা আছে তার ইমান আছে; যার লজ্জা নেই তার ইমানও নেই।

এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) হতে বর্ণিত-‘রসুল (সা.) বলেছেন, ইমানের ষাটেরও অধিক (কোনো কোনো বর্ণনায় সত্তরের অধিক) শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ইমানের একটি শাখা।’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-৯; মুসলিম : হাদিস-৩৫, আহমাদ-৯৩৭২)।

আরেক  হাদিসে এসেছে-‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রসুল (সা.) এক আনসারির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নসিহত করছিলেন। আল্লাহর রসুল (সা.) তাঁকে বললেন-ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ইমানের অঙ্গ।’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-২৪, ৬১১৮, মুসলিম : হাদিস-৩)।

আরও অনেক হাদিস দ্বারা লজ্জা ইমানের অঙ্গ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। মনে রাখা দরকার, ইমানের আরও বিভিন্ন স্তর আছে। সেগুলোও একজন মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) হতে বর্ণিত-‘আল্লাহর রসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। প্রশ্ন করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, কবুল হজ সম্পাদন করা।’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-২৬, ১৫১৯; মুসলিম : হাদিস-৮৩)।

আরেকটি হাদিসে ইমান ও ইসলামের পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত-‘একদা আল্লাহর রসুল (সা.) জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন-ইমান কী? তিনি বললেন, ইমান হলো আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, (কিয়ামতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রসুলদের প্রতি। আপনি আরও বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন-ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম হলো আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করবেন না, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, জাকাত আদায় করবেন এবং রমজানের সিয়ামব্রত পালন করবেন। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন-‘ইহসান কী? তিনি বললেন, আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন) তিনি আপনাকে দেখছেন। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন-‘কিয়ামত কবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতগুলো বলে দিচ্ছি-বাঁদি যখন তার প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (কিয়ামতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। অতঃপর আল্লাহর রসুল (সা.) এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করলেন-কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই নিকট ... (সুরা লুকমান : আয়াত-৩১-৩৪)। এরপর ওই ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেন, তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন। তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ইনি জিবরাইল (আ.)। লোকদের তাদের দীন শেখাতে এসেছিলেন। আবু আবদুল্লাহ বুখারি (রহ.) বলেন, আল্লাহর রসুল (সা.) এসব বিষয়কে ইমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’ (বুখারি : হাদিস-৫০, ৪৭৭৭; মুসলিম : হাদিস-৯)।

আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো কোনো মুসলমানের মধ্যে সামান্য পরিমাণও যদি ইমান থাকে, আল্লাহ তাকে একদিন না একদিন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ইমান থাকলেও সে জান্নাতে যাবে। এ বিষয়ে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত-‘রসুল (সা.) বলেছেন, বেহেশতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহতায়ালা মালাইকাদের (ফেরেশতাদের) বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ইমান আছে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনো। তারপর তাদের জাহান্নাম থেকে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (রহ.) শব্দ দুটির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন] নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে ওঠে। তুমি কি দেখতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের হয় ও ঘন হয়ে গজায়?’ (সহিহ বুখারি : হাদিস-২২; মুসলিম : হাদিস-১৮৪)।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।

♦ লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত