সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে পাকিস্তান। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন নিয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ইয়েমেনে মিসরের বিপর্যয়কর সামরিক হস্তক্ষেপের স্মৃতি নতুন করে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের জন্য ঝুঁকিও বেড়েছে।
১৯৬৭ সালে আরব বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা গামাল আবদেল নাসের কায়রোয় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এক বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ইয়েমেনে একটি কোম্পানি–প্রায় ২০০ সেনা–পাঠিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেখানে সেনাসংখ্যা বাড়িয়ে ৭০ হাজার করতে হয়েছে।
সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে অংশ নিতে মিসর যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক এবং নিজেদের সামরিক বাহিনীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য পাঠিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দেশটি ব্যর্থ হয়। ইয়েমেনে মিসরের সেই বিপর্যয় ইতিহাসে ‘মিসরের ভিয়েতনাম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রায় ছয় দশক পর পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও সেই ‘মিসরের ভিয়েতনাম’ নিয়ে ভাবছেন। তাঁর মিত্র সৌদি আরব এখন এমন এক গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মুখে, যা ১৯৯০ সালে সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলের পর দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইয়েমেনভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে দুই দফা আঘাত হেনেছে। হুতিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের তেল সরবরাহব্যবস্থা কার্যত অচল করে দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ট্রাম্পের নিজেরও রাজনৈতিক উদ্বেগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে তাঁর জনসমর্থন কমে সর্বনিম্ন ২৯ শতাংশে নেমেছে।
ইসলামী বিশ্বের বৃহত্তম সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন আসিম মুনির। পাকিস্তানের এই বাহিনীতে ছয় লাখের বেশি সেনাসদস্য রয়েছেন। দুটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে সৌদি আরবকে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে পাকিস্তানের।
এর মধ্যে প্রথমটি হলো ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। দ্বিতীয়টি হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি (এমডিএ), যাতে তুরস্কও অন্তর্ভুক্ত। চলতি বছরের ৭ আগস্ট চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্যতম মূলনীতি হলো–একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির সময় এমন পরিস্থিতি হয়তো দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার পর এখন এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, সৌদি আরবকে সহায়তা করতে গিয়ে পাকিস্তান কি ইয়েমেনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে? সেই সংঘাত কি আসিম মুনিরের জন্য এমন এক সামরিক ও রাজনৈতিক ফাঁদ তৈরি করবে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে? খবর ইন্ডিয়া টুডের।
মতামত