নতুন স্মার্টফোন হাতে পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবহার শুরু করতে চান অনেকেই। কিন্তু ফোন চালু করে ভাষা নির্বাচন, ওয়াই-ফাই সংযোগ, গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন এবং পুরোনো ফোনের তথ্য স্থানান্তর করতে গিয়ে কেটে যায় অনেকটা সময়। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, স্মার্টফোনের সেটআপ প্রক্রিয়াতেও যুক্ত হচ্ছে নানা ধাপ। প্রশ্ন হলো, আধুনিক ফোনেও প্রথমবার সেটআপ করতে এত সময় লাগে কেন?
শুধু ফোন চালু করলেই কাজ শেষ নয়
নতুন ফোন প্রথমবার চালু করার পর অপারেটিং সিস্টেমকে ব্যবহারকারীর পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হয়। এ জন্য ভাষা, অঞ্চল, তারিখ, সময় ও ইন্টারনেট সংযোগের মতো প্রাথমিক সেটিংস ঠিক করতে হয়। এরপর গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন, পরিচয় যাচাই, পরিষেবার শর্তে সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার ধাপ রয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্রিন লক, আঙুলের ছাপ বা মুখ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। অ্যাকাউন্টে দুই ধাপে যাচাইকরণ চালু থাকলে পরিচয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
পুরোনো ফোনের তথ্য স্থানান্তরেই বেশি সময়
সেটআপে দেরির অন্যতম কারণ পুরোনো ফোন থেকে নতুন ফোনে তথ্য স্থানান্তর। ছবি, ভিডিও, পরিচিতির তালিকা, বার্তা, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইলের পরিমাণ বেশি হলে সেগুলো কপি করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই ফোনের কার্যক্ষমতা, তথ্যের পরিমাণ এবং স্থানান্তরের পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে তথ্য স্থানান্তরের সময় নেটওয়ার্কের গতি ও স্থিতিশীলতা প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ক্লাউড ব্যাকআপ থেকে তথ্য ফিরিয়ে আনতে সময় নির্ভর করে ইন্টারনেটের গতি, ব্যাকআপের আকার এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবার অবস্থার ওপর। শুধু অ্যাপের তালিকা ফিরে এলেই সব তথ্য ও সেটিংস আগের মতো পাওয়া যায় না। কিছু অ্যাপে আবার নতুন করে সাইন ইন করতে হয়।
সফটওয়্যার আপডেট ও নিরাপত্তা যাচাই
নতুন ফোনে আগে থেকেই থাকা অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ সর্বশেষ নাও হতে পারে। তাই সেটআপের সময় নিরাপত্তা আপডেট বা নতুন সংস্করণ ডাউনলোড ও ইনস্টল করার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাপগুলোও আপডেট হতে পারে। আপডেটের আকার বড় হলে কিংবা ইন্টারনেটের গতি কম থাকলে অপেক্ষার সময় বাড়ে।
এ ছাড়া ফোনের পেছনে বিভিন্ন পরিষেবা চালু করা, অ্যাকাউন্টের তথ্য সমন্বয় এবং অ্যাপের প্রয়োজনীয় ফাইল প্রস্তুত করার কাজ চলতে পারে। এসব কাজের কিছু অংশ সেটআপ শেষ হওয়ার পরও চলতে থাকে। ফলে ফোন ব্যবহার শুরু করা গেলেও পেছনে একাধিক প্রক্রিয়া চলার কারণে শুরুতে কিছুটা ধীরগতি অনুভূত হতে পারে।
যেভাবে সেটআপে সময় বাঁচাবেন
নতুন ফোন সেটআপের আগে পুরোনো ফোনের ব্যাকআপ তৈরি করে রাখুন। দুই ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখুন এবং তথ্য স্থানান্তরের জন্য স্থিতিশীল ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করুন। গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও প্রয়োজনীয় যাচাইকরণ পদ্ধতি হাতের কাছে রাখলেও সুবিধা হবে।
সব অ্যাপ ও ফাইল একসঙ্গে স্থানান্তর করা জরুরি না হলে প্রথমে প্রয়োজনীয় তথ্য স্থানান্তর করতে পারেন। পরে সুবিধামতো বাকি ফাইল ও অ্যাপ যুক্ত করা যাবে। এতে প্রাথমিক সেটআপের সময় কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
ফোনের গতি একমাত্র কারণ নয়
নতুন স্মার্টফোন সেটআপে সময় লাগার পেছনে শুধু ফোনের গতি দায়ী নয়। তথ্য স্থানান্তর, সফটওয়্যার আপডেট, অ্যাকাউন্ট যাচাই ও নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ একাধিক ধাপ এতে ভূমিকা রাখে। তাই কয়েক মিনিটে সেটআপ শেষ না হলেই ফোনে ত্রুটি রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সেটআপ আটকে থাকলে বা বারবার ব্যর্থ হলে ইন্টারনেট সংযোগ, আপডেটের অবস্থা ও প্রয়োজনীয় সেটিংস পরীক্ষা করা যেতে পারে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস
মতামত