আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্যে একসঙ্গে একই দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির নীতি ও মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ট্রাম্পের সম্ভাব্য অযোগ্যতা ও গণতন্ত্রের প্রতি কথিত হুমকি মোকাবিলায় সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের হাতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতি এবং তাঁর মনোনীত যেকোনো প্রার্থীকে সহজে আটকে দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন সচেতন নাগরিক ও মন্তব্যকারীরা। নির্বাচনী আবহ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক বৈরিতা ও দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার তাগিদেই ডেমোক্র্যাটদের বিজয় কামনা করছেন ভোটাররা। তাঁদের বিশ্বাস, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রভাব ও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ প্রতিহত করা সম্ভব। সাম্প্রতিক জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটও দখল করতে পারেন, যা তাঁদের কংগ্রেসের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এনে দেবে। এটি একসময় প্রায় অকল্পনীয় বিষয় ছিল। যদি ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত সিনেট হয়। ট্রাম্প, তাঁর পরিবার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর ও ব্যাপক তদন্ত শুরু করার আইনি ক্ষমতা (সমন জারির ক্ষমতা) লাভ করবে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রিপাবলিকানদের অন্দরে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে একধরনের আতঙ্ক ও হতাশা কাজ করছে। চার্লস কচের সুপার প্যাক ‘আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি অ্যাকশন’–এর তথ্য অনুযায়ী, দলের প্রায় প্রতি পাঁচজন নির্ভরযোগ্য মূল ভোটারের মধ্যে একজন এখন ভোট দেওয়া নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বহু সাধারণ ভোটার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। অনেক আইওয়া বা অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের দীর্ঘদিনের ট্রাম্পপন্থী ভোটারও খোলাখুলিভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, তাঁরা এবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কিংবা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। নানা জরিপে উঠে এসেছে, এই প্রথম (১৯৩২) ৯৪ বছর পরে কানসাস রাজ্যে স্বতন্ত্র ভোটাররা বিপুল ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হ্যামিলটনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার রিপাবলিকান প্রার্থী মার্শালের পক্ষ ত্যাগ করছেন অথবা এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন। প্রায় ৯৪ বছর ধরে কানসাসে কোনো ডেমোক্র্যাট নেতা সিনেটর নির্বাচিত হতে পারেননি, যা মার্কিন রাজনীতিতে কোনো এক দলের দীর্ঘতম ধরে রাখা আসনগুলোর একটি। রাজনীতির মাঠে উঠে আসছে রিপাবলিকানদের অতীতের কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক পদক্ষেপের কথা। এর মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সুপ্রিম কোর্টে মেরিক গারল্যান্ডকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেলের কৌশলে আটকে দেওয়ার ঘটনাটি অন্যতম।
ভোটারদের বড় একটি অংশের মতে, বর্তমান পটভূমিতে রিপাবলিকানদের সেই রাজনৈতিক কৌশলের একটি নৈতিক বা রাজনৈতিক ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার উপযুক্ত সময় এই মধ্যবর্তী নির্বাচন। গণতন্ত্র সুরক্ষায় ভোটাররা এগিয়ে এলে হয়তো এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল উল্টে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা যদি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেন, তবে বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
মতামত