দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ৩০৩ শিশু। এসব শিশুর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, খেলনা, পোশাক ও শিশুখাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ এবং তাদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেছে অধিদপ্তর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হয়। এ সময় তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের বিষয়টিও তদারকি করা হয়। শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় তাদের পছন্দের নিকটাত্মীয়ের কাছে অথবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশও করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
এর আগে গত ১৫ জুন দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও বয়সের বিবরণ জানতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে এখনো সেই প্রতিবেদন দাখিল করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন এবং রুল জারি করেন।
রুলে কারাগারে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, শিক্ষা, সুষ্ঠু বিকাশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অবকাশকালীন ছুটির পর রিটটির চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
কারা অধিদপ্তরের ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ছিল ২৯৯ শিশু। তাদের মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুর মায়েদের অধিকাংশই মাদক মামলার আসামি। তাঁদের কেউ কারাদণ্ড ভোগ করছেন, আবার কারও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ১০০ শিশু। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ৯০, রাজশাহী বিভাগের আটটিতে ২৫, সিলেটের পাঁচটিতে ১৯, রংপুরের আটটিতে ২৫, খুলনার ১০টিতে ২০, বরিশালের ছয়টিতে চার এবং ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি কারাগারে রয়েছে ১৩ শিশু। মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে।
মতামত