নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি একটি কাপড়ের দোকান থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবারের হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে সদর থানা-পুলিশ। চুরি হওয়ার চার দিন পর ল্যাপটপটি উদ্ধার হলেও ব্যাগে থাকা ক্যামেরাটি পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় অমল কুমার সাহা (৫৬) ও অন্তর কুমার সাহা (২২) নামে দুই পিতা ও পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্তর কুমার সাহা নূর ক্লথ স্টোর নামের একটি দোকানের কর্মচারী।
রোববার রাত সাড়ে ১০টায় নাটোর সদর থানায় এক প্রেস বিফ্রিং এ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নাটোর জেলা -পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এর আগে রাত পৌনে ৯টায় শহরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লথ স্টোরের সামনে থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে সদর থানা-পুলিশ।
হেফাজতে থাকা বাবা-পুত্রের বরাতে পুলিশ সুপার শরীফুল হক জানান, গত বুধবার ৭ অক্টোবর নাটোর রেলস্টেশন থেকে ক্রিলের ল্যাপটপটি চুরি হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার অমল কুমার সাহা নামের এক ব্যক্তি নাটোর থেকে নওগাঁয় নিজ শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে নলডাঙ্গার মাধনগর স্টেশন এলাকায় তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে একটি সিটের নিচে ক্রিলের ল্যাপটপটি দেখতে পান। পরে তিনি এটা নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ি নওগাঁয় চলে যান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ হারানোর সংবাদ দেখতে পান। পুরো ঘটনাটি তিনি কাপুরিয়াপট্টির নূর ক্লথ স্টোরের কর্মচারী ছেলে অন্তরকে জানান। ছেলে অন্তর বাবাকে জানান বিষয়টি পরে দেখা যাবে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘আজকে (রোববার) তাঁরা (পিতা-পুত্র) নওগাঁ থেকে নাটোরে এসে পৌঁছালে আমরা ম্যাকবুকের লোকেশন শহরের মধ্যে পাই। লোকেশন ট্র্যাক করে কাপুড়িয়াপট্টি এলাকা ঘিরে ফেলে নূর ক্লথ স্টোরের সামনে থাকা অমল সাহার ছেলে অন্তরের থেকে পুলিশ ল্যাপটপটি উদ্ধার করে।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বর্তমানে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের (পিতা-পুত্র) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা ল্যাপটপটি পাওয়ার বিষয়ে যে দাবি করছে তার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
পুলিশ সুপার বলেন, যে যুবক ব্যাগটি নিয়েছিলেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে আমরা খুঁজে পাইনি। তাকে ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তাকে পেলে ক্যামেরা পাওয়া যাবে।
পুলিশ সুপার বলেন, ল্যাপটপ উদ্ধারের বিষয়টি ক্রিল ল্যান্ডার উইবারকে জানানো হয়েছে। এতে তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ল্যাপটপটি যে তার, তা তিনি নিশ্চিত করেছেন। ওনার অন্যান্য যে মালামাল রয়েছে সেগুলোও উদ্ধার আমরা কাজ করছি বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকেলে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগ রেখে টাকা তুলতে যান জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবার। তবে টাকা তুলে ফিরে এসে ওই ব্যক্তিকে আর পাননি তিনি। পরে জানতে পারেন, তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে হারানো ব্যাগটি উদ্ধারে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্যাগের ভেতর থাকা ম্যাকবুকের বিভিন্ন লোকেশনে স্থান পরিবর্তন হতে দেখা যায়। এই সূত্র ধরে ল্যাপটপটি নাটোর শহরে আসে এবং পুলিশ তা উদ্ধার করে।
মতামত