ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার-ফেসবুক ব্যবহার কি জায়েজ?



মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার-ফেসবুক ব্যবহার কি জায়েজ?
মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার-ফেসবুক ব্যবহার কি জায়েজ?

এক ব্যক্তি জানতে চান, মসজিদে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে গুনাহ হবে কি না।

জবাবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর এবং পবিত্র ইবাদতগাহ। এটি আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও দ্বীনি আমলের জন্য নির্ধারিত। তাই মসজিদের আদব ও সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

মসজিদের আদব-শিষ্টাচার বজায় রেখে একান্ত প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার, খেলাধুলা বা বিনোদনে ব্যস্ত থাকা, দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা কিংবা এমনভাবে ছবি-ভিডিও দেখা, যাতে অন্য মুসল্লিদের কষ্ট হয় বা তাদের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে, তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় অনর্থক মোবাইল ব্যবহার পরিহার করা উচিত।

মসজিদে প্রবেশের আগে মোবাইল সাইলেন্ট করুন

সম্ভব হলে মসজিদে আসার আগে মোবাইল ফোন বাড়ি, অফিস বা দোকানে রেখে আসা ভালো। তা সম্ভব না হলে মসজিদে প্রবেশের আগেই ফোন বন্ধ করে দেওয়া অথবা অন্তত সাইলেন্ট মোডে রাখা উচিত। পাশাপাশি রিংটোন ও মেসেজের অ্যালার্টে গান-বাজনা বা শরিয়তবিরোধী কোনো শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে ভুলবশত ফোন বেজে উঠলেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

মসজিদে ফোন এলে করণীয়

মসজিদে জরুরি ফোন এলে যথাসম্ভব বাইরে গিয়ে কথা বলা উচিত। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে নিরিবিলি স্থানে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিচু স্বরে ও সংক্ষেপে কথা বলা যেতে পারে। তবে মুসল্লিদের মাঝে বসে ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ, এতে অন্যদের নামাজ ও ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বিশেষ করে জামাতের সময় এবং অন্য মুসল্লিরা ইবাদতে মগ্ন থাকলে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।আরও পড়ুনআরও পড়ুনকন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার ব্যবহার

হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে একান্ত প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় মেসেজ আদান-প্রদান, অনৈতিক কাজে এসব মাধ্যম ব্যবহার কিংবা এমন কোনো বিষয় দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে, যা মসজিদের আদবের পরিপন্থী বা অন্য মুসল্লিদের মনোযোগ নষ্ট করে।

ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার

মসজিদে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপ্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে এসব মাধ্যমে বিনোদনমূলক ভিডিও দেখা বা অনর্থক কাজে সময় কাটানো মসজিদের ইবাদতমুখী পরিবেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

এ ছাড়া মোবাইলের ওয়ালপেপারে মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকলে তা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করা উচিত। এ ধরনের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে ধর্মীয় নির্দেশনা জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মসজিদে মোবাইল ব্যবহারে মূলনীতি

মসজিদে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিজেই সব ক্ষেত্রে গুনাহের বিষয় নয়। বরং এর ব্যবহার কী উদ্দেশ্যে, কীভাবে এবং অন্য মুসল্লিদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা বিবেচ্য। প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে মসজিদের আদব বজায় রেখে মোবাইল ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, বিনোদনে মগ্ন থাকা এবং অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব।

القرآن الکریم: (النور، الآیة: ৩৬)

فِیْ بُیُوْتٍ اَذِنَ اللّٰهُ اَنْ تُرْفَعَ وَ یُذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗۙ-یُسَبِّحُ لَهٗ فِیْهَا بِالْغُدُوِّ وَ الْاٰصَالِ

القرآن الکریم: (لقمان، الآیة: ৬)

" وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ"

مشکوٰۃ المصابیح: (رقم الحدیث: ৪৮১০)

"وعن جابر قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " الغناء ينبت النفاق في القلب كما ينبت الماء الزرع " . رواه البيهقي في " شعب الإيمان۔"

المستدرك على الصحيحين: (رقم الحدیث: ৭৯১৬، ط: دار الكتب العلمية)

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يأتي على الناس زمان يتحلقون في مساجدهم وليس همهم إلا الدنيا ليس لله فيهم حاجة فلا تجالسوهم.

(مشكاة المصابيح: كتاب اللباس، باب التصاوير، ১২৭৪/২، ط: المكتب الإسلامي)

"عن عبد الله بن مسعود قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: أشد الناس عذاباً عند الله المصورون."

(شعب الایمان للبیہقی: الصلاۃ، فصل المشي الی المساجد، ৩৮৭/৪، ط : مکتبة الرشد)

"قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يأتي على الناس زمان يكون حديثهم في مساجدهم في أمر دنياهم، فلا تجالسوهم، فليس لله فيهم حاجة."

(فتاوی ہندیہ: کتاب الکراهية، الباب الخامس فی آداب المسجد و القبلة و المصحف وما کتب فیه شیء من القرآن، ৩২১/৫، ط: رشيدية)

"الجلوس في المسجد للحديث لايباح بالاتفاق؛ لأن المسجد ما بني لأمور الدنيا، وفي خزانة الفقه ما يدل على أن الكلام المباح من حديث الدنيا في المسجد حرام. قال: و لايتكلم بكلام الدنيا، و في صلاة الجلابي الكلام المباح من حديث الدنيا يجوز في المساجد، و إن كان الأولى أن يشتغل بذكر الله تعالى."

সূত্র: মুসলিম বাংলা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মসজিদে হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার-ফেসবুক ব্যবহার কি জায়েজ?

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

এক ব্যক্তি জানতে চান, মসজিদে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে গুনাহ হবে কি না।

জবাবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর এবং পবিত্র ইবাদতগাহ। এটি আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও দ্বীনি আমলের জন্য নির্ধারিত। তাই মসজিদের আদব ও সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

মসজিদের আদব-শিষ্টাচার বজায় রেখে একান্ত প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার, খেলাধুলা বা বিনোদনে ব্যস্ত থাকা, দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা কিংবা এমনভাবে ছবি-ভিডিও দেখা, যাতে অন্য মুসল্লিদের কষ্ট হয় বা তাদের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে, তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষায় অনর্থক মোবাইল ব্যবহার পরিহার করা উচিত।

মসজিদে প্রবেশের আগে মোবাইল সাইলেন্ট করুন

সম্ভব হলে মসজিদে আসার আগে মোবাইল ফোন বাড়ি, অফিস বা দোকানে রেখে আসা ভালো। তা সম্ভব না হলে মসজিদে প্রবেশের আগেই ফোন বন্ধ করে দেওয়া অথবা অন্তত সাইলেন্ট মোডে রাখা উচিত। পাশাপাশি রিংটোন ও মেসেজের অ্যালার্টে গান-বাজনা বা শরিয়তবিরোধী কোনো শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে ভুলবশত ফোন বেজে উঠলেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

মসজিদে ফোন এলে করণীয়

মসজিদে জরুরি ফোন এলে যথাসম্ভব বাইরে গিয়ে কথা বলা উচিত। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে নিরিবিলি স্থানে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিচু স্বরে ও সংক্ষেপে কথা বলা যেতে পারে। তবে মুসল্লিদের মাঝে বসে ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ, এতে অন্যদের নামাজ ও ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বিশেষ করে জামাতের সময় এবং অন্য মুসল্লিরা ইবাদতে মগ্ন থাকলে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।আরও পড়ুনআরও পড়ুনকন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার ব্যবহার

হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে একান্ত প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় মেসেজ আদান-প্রদান, অনৈতিক কাজে এসব মাধ্যম ব্যবহার কিংবা এমন কোনো বিষয় দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে, যা মসজিদের আদবের পরিপন্থী বা অন্য মুসল্লিদের মনোযোগ নষ্ট করে।

ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার

মসজিদে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপ্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে এসব মাধ্যমে বিনোদনমূলক ভিডিও দেখা বা অনর্থক কাজে সময় কাটানো মসজিদের ইবাদতমুখী পরিবেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

এ ছাড়া মোবাইলের ওয়ালপেপারে মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকলে তা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করা উচিত। এ ধরনের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে ধর্মীয় নির্দেশনা জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মসজিদে মোবাইল ব্যবহারে মূলনীতি

মসজিদে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিজেই সব ক্ষেত্রে গুনাহের বিষয় নয়। বরং এর ব্যবহার কী উদ্দেশ্যে, কীভাবে এবং অন্য মুসল্লিদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা বিবেচ্য। প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে মসজিদের আদব বজায় রেখে মোবাইল ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, বিনোদনে মগ্ন থাকা এবং অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব।

القرآن الکریم: (النور، الآیة: ৩৬)

فِیْ بُیُوْتٍ اَذِنَ اللّٰهُ اَنْ تُرْفَعَ وَ یُذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗۙ-یُسَبِّحُ لَهٗ فِیْهَا بِالْغُدُوِّ وَ الْاٰصَالِ

القرآن الکریم: (لقمان، الآیة: ৬)

" وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ"

مشکوٰۃ المصابیح: (رقم الحدیث: ৪৮১০)

"وعن جابر قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " الغناء ينبت النفاق في القلب كما ينبت الماء الزرع " . رواه البيهقي في " شعب الإيمان۔"

المستدرك على الصحيحين: (رقم الحدیث: ৭৯১৬، ط: دار الكتب العلمية)

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يأتي على الناس زمان يتحلقون في مساجدهم وليس همهم إلا الدنيا ليس لله فيهم حاجة فلا تجالسوهم.

(مشكاة المصابيح: كتاب اللباس، باب التصاوير، ১২৭৪/২، ط: المكتب الإسلامي)

"عن عبد الله بن مسعود قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: أشد الناس عذاباً عند الله المصورون."

(شعب الایمان للبیہقی: الصلاۃ، فصل المشي الی المساجد، ৩৮৭/৪، ط : مکتبة الرشد)

"قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " يأتي على الناس زمان يكون حديثهم في مساجدهم في أمر دنياهم، فلا تجالسوهم، فليس لله فيهم حاجة."

(فتاوی ہندیہ: کتاب الکراهية، الباب الخامس فی آداب المسجد و القبلة و المصحف وما کتب فیه شیء من القرآن، ৩২১/৫، ط: رشيدية)

"الجلوس في المسجد للحديث لايباح بالاتفاق؛ لأن المسجد ما بني لأمور الدنيا، وفي خزانة الفقه ما يدل على أن الكلام المباح من حديث الدنيا في المسجد حرام. قال: و لايتكلم بكلام الدنيا، و في صلاة الجلابي الكلام المباح من حديث الدنيا يجوز في المساجد، و إن كان الأولى أن يشتغل بذكر الله تعالى."

সূত্র: মুসলিম বাংলা


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত