অন্যের জ্ঞান, সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সফলতা দেখে মনে মনে তা বিনষ্ট হওয়ার কামনা করাই হলো হিংসা। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অন্তরের অতি ভয়ংকর একটি ব্যাধি। হিংসা শুধু সামাজিক সম্প্রীতিই বিনষ্ট করে না, মানুষের আত্মিক শান্তি ও সৎ আমলগুলোকেও নিঃশেষ করে দেয়।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কি মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তার জন্য?’ (সুরা নিসা: ৫৪)
মানব ইতিহাসের প্রথম অপরাধ বা কাবিল কর্তৃক হাবিলকে হত্যার মূলে ছিল এই হিংসা ও বিদ্বেষ। হিংসা মানুষের অজান্তেই নেক আমল পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ আগুন যেমন কাঠ খেয়ে ফেলে, হিংসাও তেমনি নেক আমল খেয়ে ফেলে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৩)
বাস্তবে হিংসুক ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করার আগে নিজের অন্তরের শান্তিকেই ধ্বংস করে। অন্যের নিয়ামত দেখে তার ভেতরে অস্থিরতার যে আগুন জ্বলে, তা তাকে ক্রমেই গিবত, অপবাদ ও শত্রুতার মতো বড় বড় গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়।
হিংসার বিপরীতে ইসলামের শিক্ষা হলো অন্যের জন্য কল্যাণ কামনা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।’ (সহিহ বুখারি: ১৩)
১. অন্যের সফলতা দেখলে মনে মনে হিংসা না করে তার বরকতের জন্য দোয়া করা এবং নিজের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করা।
২. নিজের জীবনে থাকা অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
৩. যার প্রতি অন্তরে হিংসা বা অস্বস্তি তৈরি হয়, গোপনে তার জন্য বেশি বেশি ভালো দোয়া করা ও তার প্রশংসা করা।
লেখক: খতিব ও শিক্ষক
মতামত