ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন জাতীয় কমিটি বাতিল দাবি



পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন জাতীয় কমিটি বাতিল দাবি
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন জাতীয় কমিটি বাতিল দাবি

পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলসহ আট দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। নেতারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক। অথচ বর্তমান সরকার এই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করছে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অধিকার রক্ষায় এই সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন নেতারা। এদিন রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পল্টন মোড় থেকে বিজয়নগর হয়ে নয়াপল্টন পর্যন্ত গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপক শীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা, যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্রলীগের (জাসদ) সভাপতি গৌতম শীল প্রমুখ। 

নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার অবসানের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধাত্মক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা চুক্তির চেতনার পরিপন্থি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। অবিলম্বে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের আট দফা দাবিতে আরও রয়েছে– পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন; পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার; চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ প্রদানের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ; বিধিমালা প্রণয়নসহ দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সমস্যাসহ সব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ আয়োজন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন জাতীয় কমিটি বাতিল দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলসহ আট দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। নেতারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক। অথচ বর্তমান সরকার এই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করছে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অধিকার রক্ষায় এই সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন নেতারা। এদিন রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পল্টন মোড় থেকে বিজয়নগর হয়ে নয়াপল্টন পর্যন্ত গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপক শীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা, যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্রলীগের (জাসদ) সভাপতি গৌতম শীল প্রমুখ। 

নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার অবসানের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধাত্মক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা চুক্তির চেতনার পরিপন্থি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। অবিলম্বে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের আট দফা দাবিতে আরও রয়েছে– পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন; পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার; চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ প্রদানের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ; বিধিমালা প্রণয়নসহ দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি সমস্যাসহ সব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ আয়োজন।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত