ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক লড়াই চালানোর বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে খবরটি জানা গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ জানিয়েছে, মার্কিন মধ্যস্থতায় সৌদি যুবরাজের কাছে এই সহায়তার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। মূলত রিয়াদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা এবং নিজেদের মূল আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান-সমর্থিত হুতিদের লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ হিসেবে এটিকে দেখেছিল ইসরায়েল। তবে সৌদি যুবরাজ এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি এতে নিজ দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করেছেন।
২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তির পর সৌদি আরবের সঙ্গেও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আশা ব্যক্ত করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর সেই আলোচনা থমকে যায়।
এদিকে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী হামলার পর সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেতানিয়াহু তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এই হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে রবিবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ফোনালাপে আরাঘচি বলেন, সামরিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক সমাধানকে উপেক্ষা করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সায়াদা প্রদেশে সৌদি আরবের একটি সশস্ত্র উইং লুং-২ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ড্রোনটি ওই এলাকায় বৈরী মিশন পরিচালনা করার সময় তা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মতামত