সৌন্দর্যচর্চার দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ট্রেন্ডের আগমন ঘটে। এর সিংহভাগেরই জন্ম দক্ষিণ কোরিয়া বা কে-বিউটি কালচারে। টেন-স্টেপ মেথড থেকে স্কিন স্লাগিং-ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে একের পর এক পণ্যের ব্যবহার এবং জটিল কৌশল মেনে চলতে চলতেই যেন ক্লান্ত আজকের সৌন্দর্যপ্রেমীরা। এই ধারাবাহিকতার উল্টো স্রোতে ভেসে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কে-বিউটিরই আরেকটি অনন্য কৌশল- ‘স্কিপ কেয়ার’। সহজ কথায়, ইংরেজি ‘স্কিপ’ শব্দের অর্থ বাদ দেওয়া। স্কিপ কেয়ার হলো ত্বকযত্নে অপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বাড়তি ধাপ এড়িয়ে চলার এক মিনিমালিস্টিক বা সংক্ষিপ্ত মাধ্যম। ‘যত বেশি, তত ভালো’-এই ম্যাক্সিমালিস্ট ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কিপ কেয়ারের মূল দর্শন হলো ‘যত কম, তত ভালো’।
কেন বাড়ছে স্কিপ কেয়ারের জনপ্রিয়তা?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখে কিংবা রূপচর্চার নতুন নতুন ট্রেন্ডে ভেসে আমরা অনেকেই ত্বকে একসঙ্গে প্রচুর প্রসাধনী ব্যবহার করি। তবে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকের ওপরের সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ত্বকে দেখা দেয় বাড়তি সংবেদনশীলতা ও নানা রকমের জটিলতা। তাই অতি পরিচর্যা এড়িয়ে ত্বককে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে স্কিপ কেয়ার দারুণ কার্যকর। এ ছাড়া নিয়মিত লম্বা সময় ধরে প্রসাধনীর স্তরায়ন করা বা অতিরিক্ত পণ্য কেনা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি ব্যস্তময় দৈনন্দিন জীবনে সময়সাপেক্ষও বটে। কম সময়ে এবং অল্প খরচে কার্যকর ফল মেলায় অনেকেই এখন ঝুঁকছেন এই পদ্ধতির দিকে।
সচেতন যত্ন ও বহুমুখী পণ্যের ব্যবহার
স্কিপ কেয়ার কৃত্রিমভাবে নিখুঁত ত্বকের বদলে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর ত্বককে প্রাধান্য দেয়। বর্তমানে ক্রেতারাও রূপচর্চার উপকরণ বা ইনগ্রেডিয়েন্ট সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। ইন্টারনেটে ভাইরাল হলেই অন্ধের মতো কোনো পণ্য কেনার বদলে তারা পণ্যের কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে। এই চাহিদার বিবেচনায় রূপচর্চার বাজারে যুক্ত হচ্ছে মাল্টিফাংশনাল বা বহুমুখী প্রসাধনী। যেমন-এমন ফেসওয়াশ যা ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি আর্দ্রতা বজায় রাখে, কিংবা এমন সেরাম যা ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সানস্ক্রিনের কাজও সারে। অর্থাৎ একটি পণ্যে একাধিক সুবিধা পাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনীর ব্যবহার এমনিতেই কমে আসে।
মতামত