ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

বছরের পর বছর প্রবাসে, স্ত্রীর অধিকার নিয়ে ইসলামের বিধান



বছরের পর বছর প্রবাসে, স্ত্রীর অধিকার নিয়ে ইসলামের বিধান
বছরের পর বছর প্রবাসে, স্ত্রীর অধিকার নিয়ে ইসলামের বিধান

জীবিকার তাগিদে অনেক স্বামী স্ত্রীকে দেশে রেখে প্রবাসে থাকেন। কেউ কয়েক মাস পর দেশে ফেরেন, আবার কেউ বছরের পর বছর পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকেন। এ অবস্থায় স্ত্রীর ভরণপোষণ, দাম্পত্য অধিকার ও মানসিক চাহিদা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে— প্রবাসে থাকলেই কি স্ত্রীর হক নষ্ট হয়? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কাজের প্রয়োজনে স্বামীর বিদেশে থাকা নিজে থেকেই অন্যায় নয়। তবে প্রবাসে থাকার কারণে স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার অবহেলিত হলে তা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। স্ত্রীর আর্থিক প্রয়োজন পূরণ, তার সঙ্গে সদাচরণ এবং দাম্পত্য জীবনের অধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও স্বামীর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

হানাফি ফিকহের একাধিক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, স্ত্রী সম্মতি না দিলে স্বামীর চার মাস বা তার বেশি সময় দূরে থাকার ক্ষেত্রে তার অধিকার ও প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি। দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, স্ত্রী সম্মতি দিলে স্বামী চার মাসের বেশি সময় দূরে থাকতে পারেন; তবে স্ত্রী সম্মতি না দিলে তার প্রয়োজন পূরণে স্বামীর ফিরে আসা উচিত।

তবে চার মাসকে সব পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতি, স্ত্রীর প্রয়োজন, দূরে থাকার কারণ এবং দাম্পত্য অধিকার কতটা পূরণ হচ্ছে— এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনস্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়? ইসলাম কি বলে

বছরের পর বছর দূরে থাকলে কী হবে?

মুফতিঅনলাইন প্রকাশিত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকলে স্বামীর পক্ষে তাদের প্রতি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরিবারের অধিকার উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় আলাদা থাকাকে সঠিক দাম্পত্য জীবন বলা যায় না।

অবশ্য ভিসা জটিলতা, চাকরির বাধ্যবাধকতা কিংবা অন্য অনিবার্য কারণে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে বাধ্য হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ ও যোগাযোগ বজায় রাখছেন কি না, তার প্রয়োজন ও অনুভূতির প্রতি যত্নশীল কি না এবং একসঙ্গে থাকার বাস্তবসম্মত চেষ্টা করছেন কি না— এসব গুরুত্বপূর্ণ।

স্ত্রীর কোন অধিকারগুলো রক্ষা করতে হবে?

প্রবাসে থাকলেও স্বামীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর ন্যায্য ভরণপোষণ নিশ্চিত করা, তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, প্রয়োজন ও সমস্যার খোঁজ নেওয়া এবং দাম্পত্য সম্পর্কের অধিকার যথাসম্ভব পূরণ করা। শুধু টাকা পাঠানোই সব দায়িত্বের পূর্ণতা নয়; স্ত্রীর মানসিক চাহিদা ও পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, স্ত্রীর সম্মতি ও পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দীর্ঘদিন আলাদা থাকা যদি তার অধিকার ক্ষুণ্ন করে বা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলে, তাহলে স্বামীর উচিত বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগী হওয়া। প্রয়োজনে দুজনের আলোচনার মাধ্যমে দেশে ফেরা, স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়া কিংবা অন্য কোনো বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে মৌলিক চাহিদা পূরণ করে ফেরত আসা উচিত। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকা যাবে না। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


বছরের পর বছর প্রবাসে, স্ত্রীর অধিকার নিয়ে ইসলামের বিধান

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জীবিকার তাগিদে অনেক স্বামী স্ত্রীকে দেশে রেখে প্রবাসে থাকেন। কেউ কয়েক মাস পর দেশে ফেরেন, আবার কেউ বছরের পর বছর পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকেন। এ অবস্থায় স্ত্রীর ভরণপোষণ, দাম্পত্য অধিকার ও মানসিক চাহিদা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে— প্রবাসে থাকলেই কি স্ত্রীর হক নষ্ট হয়? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কাজের প্রয়োজনে স্বামীর বিদেশে থাকা নিজে থেকেই অন্যায় নয়। তবে প্রবাসে থাকার কারণে স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার অবহেলিত হলে তা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। স্ত্রীর আর্থিক প্রয়োজন পূরণ, তার সঙ্গে সদাচরণ এবং দাম্পত্য জীবনের অধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও স্বামীর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

হানাফি ফিকহের একাধিক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, স্ত্রী সম্মতি না দিলে স্বামীর চার মাস বা তার বেশি সময় দূরে থাকার ক্ষেত্রে তার অধিকার ও প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি। দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, স্ত্রী সম্মতি দিলে স্বামী চার মাসের বেশি সময় দূরে থাকতে পারেন; তবে স্ত্রী সম্মতি না দিলে তার প্রয়োজন পূরণে স্বামীর ফিরে আসা উচিত।

তবে চার মাসকে সব পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতি, স্ত্রীর প্রয়োজন, দূরে থাকার কারণ এবং দাম্পত্য অধিকার কতটা পূরণ হচ্ছে— এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনস্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়? ইসলাম কি বলে

বছরের পর বছর দূরে থাকলে কী হবে?

মুফতিঅনলাইন প্রকাশিত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকলে স্বামীর পক্ষে তাদের প্রতি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরিবারের অধিকার উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় আলাদা থাকাকে সঠিক দাম্পত্য জীবন বলা যায় না।

অবশ্য ভিসা জটিলতা, চাকরির বাধ্যবাধকতা কিংবা অন্য অনিবার্য কারণে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে বাধ্য হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ ও যোগাযোগ বজায় রাখছেন কি না, তার প্রয়োজন ও অনুভূতির প্রতি যত্নশীল কি না এবং একসঙ্গে থাকার বাস্তবসম্মত চেষ্টা করছেন কি না— এসব গুরুত্বপূর্ণ।

স্ত্রীর কোন অধিকারগুলো রক্ষা করতে হবে?

প্রবাসে থাকলেও স্বামীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর ন্যায্য ভরণপোষণ নিশ্চিত করা, তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, প্রয়োজন ও সমস্যার খোঁজ নেওয়া এবং দাম্পত্য সম্পর্কের অধিকার যথাসম্ভব পূরণ করা। শুধু টাকা পাঠানোই সব দায়িত্বের পূর্ণতা নয়; স্ত্রীর মানসিক চাহিদা ও পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, স্ত্রীর সম্মতি ও পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দীর্ঘদিন আলাদা থাকা যদি তার অধিকার ক্ষুণ্ন করে বা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলে, তাহলে স্বামীর উচিত বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগী হওয়া। প্রয়োজনে দুজনের আলোচনার মাধ্যমে দেশে ফেরা, স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়া কিংবা অন্য কোনো বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে মৌলিক চাহিদা পূরণ করে ফেরত আসা উচিত। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকা যাবে না। 


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত