যার যার নির্বাচনি এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐক্য ধরে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে না জড়াতে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আগামী দিনগুলোতে সতর্ক থাকার জন্যও তিনি দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি।
সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির সংসদীয় দলের প্রধান তারেক রহমান। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই অনেকটা হঠাৎ করে সরকারি দলের সংসদীয় দলের এই সভা ডাকায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিএনপির একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় জানানো হয়—চলতি ত্রয়োদশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশন আগামী ৮ নভেম্বর শুরু হতে পারে। অধিবেশনের আগে আবারও সংসদীয় দলের সভা ডাকা হবে। সভায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন দুর্গাপূজা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের কেউ কেউ নিজেদের নানা অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতার কথাও দলীয় ও সরকারপ্রধানের কাছে তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে যাচ্ছে আজ সোমবার। এ উপলক্ষে ইসি আজ ‘কমিশন সভা’ ডেকেছে। এই নির্বাচন নিয়েও সংসদীয় দলের সভায় আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, এই নির্বাচনে কোনোভাবে যাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিটি স্থানে দলের ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীপক্ষ যাতে পরিবেশ নষ্ট কিংবা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সেবিষয়েও সতর্ক থাকার জন্য দলের এমপিদের পরামর্শ দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সভায় তারেক রহমান বলেছেন, যে কোনো মূল্যে দেশের প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো গুপ্ত ও পলাতক শক্তি যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজায় কোনো মহল যাতে কোনো ধরনের অপরাধ করতে না পারে, সেজন্য দেশের প্রতিটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠক শেষে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘সভায় মূলত দলকে সুসংগঠিত করার এবং ঐক্য বজায় রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেছেন, ঐক্য ধরে রেখে দলকে শক্তিশালী রাখতে পারলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারবে না। এছাড়া, মাদক রোধে সকল এমপি যেন সোচ্চার ভূমিকা রাখেন সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।’
মতামত