ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

উন্নয়নের ভোগান্তিতে রাজশাহী



উন্নয়নের ভোগান্তিতে রাজশাহী
উন্নয়নের ভোগান্তিতে রাজশাহী

উন্নয়নকাজের দীর্ঘসূত্রতায় দুর্ভোগে রয়েছে রাজশাহীর নগরবাসী। চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ওয়াসার পাইপলাইন সম্প্রসারণকাজে শহরের প্রধান সড়কগুলোর কোথাও বন্ধ, কোথাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদাপানি; সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ছে ভোগান্তি। যানজট আর বিকল্প পথে চলাচলে নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। উন্নয়নকাজের ধীরগতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন, নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্রে জানা গেছে, ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিকে। প্রকল্পগুলোর মূল মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে। তবে একটির কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন সময় চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চারটি ফ্লাইওভারের মধ্যে রায়পাড়া রেলক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার দৃশ্যমান হলেও সড়কটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। তাই এই এলাকায় যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে চলতে হয়। বিলশিমলা-বন্ধগেট এলাকার ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের জন্য সরু হয়ে গেছে চলাচলের পথ। বিলশিমলা-বহরমপুর ফ্লাইওভারের কাজের কারণে সিটি বাইপাস দিয়ে সরাসরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যানবাহনকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের জন্য নিউমার্কেট পর্যন্ত রাস্তা প্রায় বন্ধ। কলাবাগান এলাকায়ও ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে চলাচলের পথ সরু হয়ে গেছে।

শহরের বন্ধগেট, রায়পাড়া ও গৌরহাঙ্গা রেলক্রসিংয়ের ওপর তিনটি ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক সুবোধ চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।’ বিলশিমলা এলাকার ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান বলেন, ‘তাঁদের প্রকল্পের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।’

গৌরহাঙ্গা এলাকার ফ্লাইওভারের একাংশের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এসইএলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাসেল আলম বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন সরানো শেষ না হওয়ায় নগর ভবন ও স্টেশন এলাকার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এসব লাইন না সরানো পর্যন্ত সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়।’ তবে প্রকল্পের অধীন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অংশে নির্মাণকাজ চলছে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে ওই অংশের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়িয়েছে রাজশাহী ওয়াসার পাইপলাইন সম্প্রসারণের কাজ। শহরের বেশ কিছু এলাকায় রাস্তার এক পাশ বন্ধ রেখে পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে ওয়াসা। এ জন্য নগরের তালাইমারী-ভদ্রা সড়কের নর্দানের মোড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। একই অবস্থা ভদ্রা-নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল সড়ক, বারোরাস্তা-বুধপাড়া সড়ক, বড়বনগ্রাম থেকে নাদের হাজির মোড় এবং ছোট বনগ্রাম থেকে ভদ্রা পার্ক পর্যন্ত সড়কে। কোথাও মাটি দেবে গেছে, কোথাও জমেছে কাদাপানি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনের গতি কমছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

শহরের রায়পাড়া-কাশিয়াডাঙ্গা সড়ক, ছোট বনগ্রাম-চকপাড়া মোড়, সাধুর মোড় থেকে অগ্রণী স্কুল, দায়রাপাক মোড়, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের সড়ক, ডাবতলা-সিটিহাট সড়ক, উপশহর-শাহ মখদুম থানা মোড়, বিনোদপুর-মির্জাপুর এবং চৌদ্দপাই থেকে বিমান চত্বর সড়কেও চলছে ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ। সড়ক কেটে পাইপ বসানোর পর মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। যানবাহনের চাপে সেই মাটি দেবে গিয়ে তৈরি হচ্ছে গর্ত। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমছে কাদাপানি। রোদ হলে উড়ছে ধুলো। কোথাও কোথাও আবার পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হলেও সড়কগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

শহরজুড়ে চলমান এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধকল আর সহ্য করতে পারছে না নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় দুর্ভোগ দীর্ঘ হচ্ছে। সড়ক কাটার পর দ্রুত সংস্কার না করা এবং ফ্লাইওভারের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।

নগরের রেলগেট হয়ে প্রতিদিন অটোরিকশায় চড়ে অফিসে যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রাদার তুহিন আলী। তিনি জানান, অফিস যাওয়ার পথে রেলগেট আর কলাবাগান পার হতেই ৩০ মিনিট চলে যায় নির্মাণকাজের কারণে। কয়েক বছর ধরে এই দুর্ভোগ চলছে।

শহরের রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার পর গতি ঠিকই ছিল। ৫ আগস্টের পর কাজ থমকে যায়। তারপর কাজে কচ্ছপগতি। এক দিনের কাজ হচ্ছে এক মাসে। এই অবস্থায় একটা রাস্তা ব্যবহার করে সোজা পথে কোথাও যাওয়ার কোনো উপায় নেই। যেকোনো জায়গায় যাতায়াত করতে হলে মূল সড়ক বাদ দিয়ে কয়েকবার বিকল্প পথে ঢোকা লাগছেই। এতে যে হাজার হাজার দুর্ভোগ হচ্ছে, এগুলো দেখার কেউ নেই।’

ওয়াসা জানিয়েছে, পাইপলাইন স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে ১৪ কিলোমিটার সড়ক কাটা হয়েছে। আরও ৩৪ কিলোমিটার সড়ক কাটার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ জানান, পাইপলাইন বসাতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য গত জুনের আগেই তাঁরা সিটি করপোরেশনকে ১৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, সড়ক সংস্কারে যে অর্থ প্রয়োজন, তাঁদের পরিশোধ করা টাকা তার প্রায় অর্ধেক। তবে এখন পর্যন্ত মোট সড়কের অর্ধেকও কাটা হয়নি। বাকি অংশে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এগোলে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট অর্থও পরিশোধ করা হবে। তাঁরা টাকা দিচ্ছেন, এখন সড়ক মেরামতের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ বলেন, ‘পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হওয়া সড়কগুলো ধাপে ধাপে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাপের কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুমে সড়ক সংস্কার করলে কাজের মান ঠিক রাখা কঠিন হবে। তাই আগামী ডিসেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

ফ্লাইওভার নির্মাণের ধীরগতিতে দুর্ভোগের বিষয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, ‘কাজে আগের চেয়ে গতি এসেছে। এবার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নকাজে অনেক বাধা-বিপত্তি থাকে। নানা রকম জটিলতা আসে। সেসব মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়।’

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


উন্নয়নের ভোগান্তিতে রাজশাহী

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উন্নয়নকাজের দীর্ঘসূত্রতায় দুর্ভোগে রয়েছে রাজশাহীর নগরবাসী। চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ওয়াসার পাইপলাইন সম্প্রসারণকাজে শহরের প্রধান সড়কগুলোর কোথাও বন্ধ, কোথাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদাপানি; সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ছে ভোগান্তি। যানজট আর বিকল্প পথে চলাচলে নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। উন্নয়নকাজের ধীরগতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন, নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্রে জানা গেছে, ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিকে। প্রকল্পগুলোর মূল মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে। তবে একটির কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন সময় চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চারটি ফ্লাইওভারের মধ্যে রায়পাড়া রেলক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার দৃশ্যমান হলেও সড়কটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। তাই এই এলাকায় যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে চলতে হয়। বিলশিমলা-বন্ধগেট এলাকার ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের জন্য সরু হয়ে গেছে চলাচলের পথ। বিলশিমলা-বহরমপুর ফ্লাইওভারের কাজের কারণে সিটি বাইপাস দিয়ে সরাসরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যানবাহনকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের জন্য নিউমার্কেট পর্যন্ত রাস্তা প্রায় বন্ধ। কলাবাগান এলাকায়ও ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে চলাচলের পথ সরু হয়ে গেছে।

শহরের বন্ধগেট, রায়পাড়া ও গৌরহাঙ্গা রেলক্রসিংয়ের ওপর তিনটি ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক সুবোধ চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।’ বিলশিমলা এলাকার ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান বলেন, ‘তাঁদের প্রকল্পের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।’

গৌরহাঙ্গা এলাকার ফ্লাইওভারের একাংশের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এসইএলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাসেল আলম বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন সরানো শেষ না হওয়ায় নগর ভবন ও স্টেশন এলাকার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এসব লাইন না সরানো পর্যন্ত সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়।’ তবে প্রকল্পের অধীন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অংশে নির্মাণকাজ চলছে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে ওই অংশের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়িয়েছে রাজশাহী ওয়াসার পাইপলাইন সম্প্রসারণের কাজ। শহরের বেশ কিছু এলাকায় রাস্তার এক পাশ বন্ধ রেখে পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে ওয়াসা। এ জন্য নগরের তালাইমারী-ভদ্রা সড়কের নর্দানের মোড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। একই অবস্থা ভদ্রা-নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল সড়ক, বারোরাস্তা-বুধপাড়া সড়ক, বড়বনগ্রাম থেকে নাদের হাজির মোড় এবং ছোট বনগ্রাম থেকে ভদ্রা পার্ক পর্যন্ত সড়কে। কোথাও মাটি দেবে গেছে, কোথাও জমেছে কাদাপানি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনের গতি কমছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

শহরের রায়পাড়া-কাশিয়াডাঙ্গা সড়ক, ছোট বনগ্রাম-চকপাড়া মোড়, সাধুর মোড় থেকে অগ্রণী স্কুল, দায়রাপাক মোড়, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের সড়ক, ডাবতলা-সিটিহাট সড়ক, উপশহর-শাহ মখদুম থানা মোড়, বিনোদপুর-মির্জাপুর এবং চৌদ্দপাই থেকে বিমান চত্বর সড়কেও চলছে ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ। সড়ক কেটে পাইপ বসানোর পর মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। যানবাহনের চাপে সেই মাটি দেবে গিয়ে তৈরি হচ্ছে গর্ত। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমছে কাদাপানি। রোদ হলে উড়ছে ধুলো। কোথাও কোথাও আবার পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হলেও সড়কগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

শহরজুড়ে চলমান এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধকল আর সহ্য করতে পারছে না নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় দুর্ভোগ দীর্ঘ হচ্ছে। সড়ক কাটার পর দ্রুত সংস্কার না করা এবং ফ্লাইওভারের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।

নগরের রেলগেট হয়ে প্রতিদিন অটোরিকশায় চড়ে অফিসে যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রাদার তুহিন আলী। তিনি জানান, অফিস যাওয়ার পথে রেলগেট আর কলাবাগান পার হতেই ৩০ মিনিট চলে যায় নির্মাণকাজের কারণে। কয়েক বছর ধরে এই দুর্ভোগ চলছে।

শহরের রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার পর গতি ঠিকই ছিল। ৫ আগস্টের পর কাজ থমকে যায়। তারপর কাজে কচ্ছপগতি। এক দিনের কাজ হচ্ছে এক মাসে। এই অবস্থায় একটা রাস্তা ব্যবহার করে সোজা পথে কোথাও যাওয়ার কোনো উপায় নেই। যেকোনো জায়গায় যাতায়াত করতে হলে মূল সড়ক বাদ দিয়ে কয়েকবার বিকল্প পথে ঢোকা লাগছেই। এতে যে হাজার হাজার দুর্ভোগ হচ্ছে, এগুলো দেখার কেউ নেই।’

ওয়াসা জানিয়েছে, পাইপলাইন স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে ১৪ কিলোমিটার সড়ক কাটা হয়েছে। আরও ৩৪ কিলোমিটার সড়ক কাটার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ জানান, পাইপলাইন বসাতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য গত জুনের আগেই তাঁরা সিটি করপোরেশনকে ১৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, সড়ক সংস্কারে যে অর্থ প্রয়োজন, তাঁদের পরিশোধ করা টাকা তার প্রায় অর্ধেক। তবে এখন পর্যন্ত মোট সড়কের অর্ধেকও কাটা হয়নি। বাকি অংশে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এগোলে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট অর্থও পরিশোধ করা হবে। তাঁরা টাকা দিচ্ছেন, এখন সড়ক মেরামতের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ বলেন, ‘পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হওয়া সড়কগুলো ধাপে ধাপে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাপের কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুমে সড়ক সংস্কার করলে কাজের মান ঠিক রাখা কঠিন হবে। তাই আগামী ডিসেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

ফ্লাইওভার নির্মাণের ধীরগতিতে দুর্ভোগের বিষয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, ‘কাজে আগের চেয়ে গতি এসেছে। এবার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নকাজে অনেক বাধা-বিপত্তি থাকে। নানা রকম জটিলতা আসে। সেসব মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়।’


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত