ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সংঘর্ষে নৌকাডুবি, আহত ২০ মাঝি



নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সংঘর্ষে নৌকাডুবি, আহত ২০ মাঝি
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সংঘর্ষে নৌকাডুবি, আহত ২০ মাঝি

রাজবাড়ীর গোদারবাজারে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচের শেষ দিনে পদ্মা নদীতে বাইচ চলাকালে পাবনার ‘নিউ শাড়িরভিটা’ ও কুষ্টিয়ার ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নৌকার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিউ শাড়িরভিটা নৌকার প্রায় ২০ জন মাঝি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর  লালগোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও নৌকা বাইচ কমিটির সদস্যরা নদী থেকে আহত মাঝিদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার আমিনপুরের আমজাদ শেখের ছেলে রাকিব (১৭), আবুল হোসেনের ছেলে রওশন (৪০), রওশন শেখের ছেলে মাসুদ শেখ (৩০), ইউসুফ শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৩৫), আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে সুজাত শেখ (২৬), হারুন সরদারের ছেলে লতিফ সরদার (৩৫), সোবহান শেখের ছেলে শরিফ শেখ (৩০), আক্কাস আলীর ছেলে সাদ্দাম (৩৭), বাবলু (৪০), ইসরাফিল (৪৭), জাহাঙ্গীরের ছেলে হাবিব (২৫), সফি শেখের ছেলে কায়েস (১৮) এবং রাজবাড়ীর কালুখালীর মৃগী এলাকার আকবর শেখের ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫), শফিকুল ইসলামসহ (৪৪) আরও বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচের আজ শনিবার ছিল শেষ দিন। বাইচের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যার পর পাবনার আমিনপুরের নিউ শাড়িরভিটা ও কুষ্টিয়ার নিউ জনতা এক্সপ্রেস নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। এ সময় নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি এগিয়ে থাকলে নিউ জনতা এক্সপ্রেস নৌকাটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি তাৎক্ষণিকভাবে ডুবে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর মাঝিরা নদীতে ভাসতে থাকলে নিউ জনতা এক্সপ্রেসের মাঝিরা বাঁশ, লাঠি ও বৈঠা দিয়ে তাদের মারধর করেন। এতে তারা আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও নৌকা বাইচ কমিটির সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

শাহিন শেখ নামের নিউ শাড়রিভিটা নৌকার মাঝি বলেন, ‘আমাদের নৌকাতে ৭০ থেকে ৮০ জন লোক ছিল। আমরা প্রতিযোগিতার সময় এগিয়ে ছিলাম। আমাদের ডান পাশে ছিল নিউ জনতার সংগ্রাম নামের নৌকা। তারা আমাদের ডান পাশ থেকে চাপ দিয়ে আমাদের নৌকা ডুবিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তারা আমাদের বাঁশ, লাঠিসোঁটা দিয়ে মেরে আহত করে।’ 

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল বলেন, ‘আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ 

নৌকা বাইচ কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বাইচের সময় কুষ্টিয়ার নিউ জনতা নৌকাটি পাবনার নিউ শাড়িরভিটা নৌকাকে চাপ দিলে সেটি ডুবে যায়। এরপর ডুবে যাওয়া নৌকার মাঝিদের পিটিয়ে আহত করা হয়। আমরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’ 

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘আজ শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২৫ মিনিটে লালগোলা এলাকায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালে নিউ শাড়িরভিটা ও নিউ জনতা সংগ্রাম নামের দুটি নৌকার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি ডুবে যায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের সদস্যরা বাইচের পেছেনে থাকার কারনে সঙ্গে সঙ্গে স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ট্রলারের সহায়তায় নৌ পুলিশ প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।’ তিনি বলেন, ‘তিনদিন যাবৎ আমরা বাইচের সঙ্গে ছিলাম, আমাদের প্রত্যেকটি সদস্য দুর্ঘটনা এড়াতে সবসময় সতর্ক অবস্থায় ছিল।’ 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সংঘর্ষে নৌকাডুবি, আহত ২০ মাঝি

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোদারবাজারে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচের শেষ দিনে পদ্মা নদীতে বাইচ চলাকালে পাবনার ‘নিউ শাড়িরভিটা’ ও কুষ্টিয়ার ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নৌকার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিউ শাড়িরভিটা নৌকার প্রায় ২০ জন মাঝি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর  লালগোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও নৌকা বাইচ কমিটির সদস্যরা নদী থেকে আহত মাঝিদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার আমিনপুরের আমজাদ শেখের ছেলে রাকিব (১৭), আবুল হোসেনের ছেলে রওশন (৪০), রওশন শেখের ছেলে মাসুদ শেখ (৩০), ইউসুফ শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৩৫), আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে সুজাত শেখ (২৬), হারুন সরদারের ছেলে লতিফ সরদার (৩৫), সোবহান শেখের ছেলে শরিফ শেখ (৩০), আক্কাস আলীর ছেলে সাদ্দাম (৩৭), বাবলু (৪০), ইসরাফিল (৪৭), জাহাঙ্গীরের ছেলে হাবিব (২৫), সফি শেখের ছেলে কায়েস (১৮) এবং রাজবাড়ীর কালুখালীর মৃগী এলাকার আকবর শেখের ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫), শফিকুল ইসলামসহ (৪৪) আরও বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচের আজ শনিবার ছিল শেষ দিন। বাইচের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যার পর পাবনার আমিনপুরের নিউ শাড়িরভিটা ও কুষ্টিয়ার নিউ জনতা এক্সপ্রেস নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। এ সময় নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি এগিয়ে থাকলে নিউ জনতা এক্সপ্রেস নৌকাটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি তাৎক্ষণিকভাবে ডুবে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর মাঝিরা নদীতে ভাসতে থাকলে নিউ জনতা এক্সপ্রেসের মাঝিরা বাঁশ, লাঠি ও বৈঠা দিয়ে তাদের মারধর করেন। এতে তারা আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও নৌকা বাইচ কমিটির সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

শাহিন শেখ নামের নিউ শাড়রিভিটা নৌকার মাঝি বলেন, ‘আমাদের নৌকাতে ৭০ থেকে ৮০ জন লোক ছিল। আমরা প্রতিযোগিতার সময় এগিয়ে ছিলাম। আমাদের ডান পাশে ছিল নিউ জনতার সংগ্রাম নামের নৌকা। তারা আমাদের ডান পাশ থেকে চাপ দিয়ে আমাদের নৌকা ডুবিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তারা আমাদের বাঁশ, লাঠিসোঁটা দিয়ে মেরে আহত করে।’ 

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল বলেন, ‘আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ 

নৌকা বাইচ কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বাইচের সময় কুষ্টিয়ার নিউ জনতা নৌকাটি পাবনার নিউ শাড়িরভিটা নৌকাকে চাপ দিলে সেটি ডুবে যায়। এরপর ডুবে যাওয়া নৌকার মাঝিদের পিটিয়ে আহত করা হয়। আমরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’ 

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘আজ শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২৫ মিনিটে লালগোলা এলাকায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালে নিউ শাড়িরভিটা ও নিউ জনতা সংগ্রাম নামের দুটি নৌকার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি ডুবে যায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের সদস্যরা বাইচের পেছেনে থাকার কারনে সঙ্গে সঙ্গে স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ট্রলারের সহায়তায় নৌ পুলিশ প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।’ তিনি বলেন, ‘তিনদিন যাবৎ আমরা বাইচের সঙ্গে ছিলাম, আমাদের প্রত্যেকটি সদস্য দুর্ঘটনা এড়াতে সবসময় সতর্ক অবস্থায় ছিল।’ 


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত