ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য: নাভি পিল্লাই



আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য: নাভি পিল্লাই
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য: নাভি পিল্লাই

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে 'নজিরবিহীন' ও অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাই।

দক্ষিণ আফ্রিকার বংশোদ্ভূত জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্য এ বছর মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। নরওয়ের নোবেল কমিটি জানায়, তার এই অবদান এক সুসংহত বৈশ্বিক আইনি কাঠামোর পথ সুগম করেছে।

তবে বিজয়ী হিসেবে আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণার পরপরই ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওয়াশিংটন আইসিসির বিরুদ্ধে কঠোর ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে। 

মার্কিন এই পদক্ষেপকে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মূল ভিত্তির ওপর মারাত্মক আঘাত বলে অভিহিত করেছে আইসিসি।

শনিবার অসলোর নোবেল পিস সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুালি যুক্ত হয়ে ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই বলেন, 'আন্তর্জাতিক বিচারালয়গুলো, বিশেষ করে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো— কেবল বিচারিক আদেশ বা রায় দেওয়ার অপরাধে একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। এমন ঘটনা ইতিহাসে নজিরবিহীন ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে জানান, আইসিসির সঙ্গে মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির মূল উদ্দেশ্য হলো 'আমেরিকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা'। তিনি আদালতটির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন।

এর আগেও আইসিসির ১৭ বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এবার সরাসরি পুরো আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

নতুন নিষেধাজ্ঞার কিছু শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার আগে ৬ মাসের ছাড় দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর অর্থ দাঁড়ায়, সদস্য রাষ্ট্রগুলো আপাতত সংস্থাটির কার্যক্রম চালানোর তহবিল দিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটনের দাবি, তাদের উদ্বেগগুলো সমাধানে সমঝোতায় পৌঁছার জন্য সদস্য দেশগুলোকে সময় দিতে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আইসিসি পরিচালনা করছে একদল 'বিশ্বায়নবাদী', যারা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।

এর আগে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসি প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার নোটিশে ওই পরোয়ানা প্রত্যাহার করতে হবে- এমন শর্ত দেওয়া হয়নি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ওপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে তীব্র দ্বিমত প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সাবেক আইনজীবী নাভি পিল্লাই তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রুয়ান্ডা, মিয়ানমার ও গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণাকে 'লজ্জাজনক ও অপমানজনক' বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে 'নরওয়ের গায়ে এক চিরস্থায়ী দাগ' বলে অভিহিত করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রহণযোগ্য: নাভি পিল্লাই

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে 'নজিরবিহীন' ও অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাই।

দক্ষিণ আফ্রিকার বংশোদ্ভূত জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্য এ বছর মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। নরওয়ের নোবেল কমিটি জানায়, তার এই অবদান এক সুসংহত বৈশ্বিক আইনি কাঠামোর পথ সুগম করেছে।

তবে বিজয়ী হিসেবে আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণার পরপরই ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওয়াশিংটন আইসিসির বিরুদ্ধে কঠোর ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে। 

মার্কিন এই পদক্ষেপকে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মূল ভিত্তির ওপর মারাত্মক আঘাত বলে অভিহিত করেছে আইসিসি।

শনিবার অসলোর নোবেল পিস সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুালি যুক্ত হয়ে ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই বলেন, 'আন্তর্জাতিক বিচারালয়গুলো, বিশেষ করে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো— কেবল বিচারিক আদেশ বা রায় দেওয়ার অপরাধে একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। এমন ঘটনা ইতিহাসে নজিরবিহীন ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে জানান, আইসিসির সঙ্গে মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির মূল উদ্দেশ্য হলো 'আমেরিকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা'। তিনি আদালতটির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন।

এর আগেও আইসিসির ১৭ বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এবার সরাসরি পুরো আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

নতুন নিষেধাজ্ঞার কিছু শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার আগে ৬ মাসের ছাড় দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর অর্থ দাঁড়ায়, সদস্য রাষ্ট্রগুলো আপাতত সংস্থাটির কার্যক্রম চালানোর তহবিল দিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটনের দাবি, তাদের উদ্বেগগুলো সমাধানে সমঝোতায় পৌঁছার জন্য সদস্য দেশগুলোকে সময় দিতে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আইসিসি পরিচালনা করছে একদল 'বিশ্বায়নবাদী', যারা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।

এর আগে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসি প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার নোটিশে ওই পরোয়ানা প্রত্যাহার করতে হবে- এমন শর্ত দেওয়া হয়নি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ওপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে তীব্র দ্বিমত প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সাবেক আইনজীবী নাভি পিল্লাই তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রুয়ান্ডা, মিয়ানমার ও গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণাকে 'লজ্জাজনক ও অপমানজনক' বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে 'নরওয়ের গায়ে এক চিরস্থায়ী দাগ' বলে অভিহিত করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত