ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প



নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

নারীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) বিদ্যমান ঋণ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা) ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ‘উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ নামে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জার্মানির বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট (ডব্লিউএইচএস) ২০২৬ উপলক্ষে আজ শনিবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বার্লিনের চ্যারিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং জরুরি প্রসূতি ও নবজাতকসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগী স্থানান্তর ও রেফারেল ব্যবস্থা, জেলা হাসপাতাল এবং নিবিড় পরিচর্যা সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বলা হয়েছে, নারীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারী ও মেয়েদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য মৌলিক বিষয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্ব পায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বসবাসের কাছাকাছি মানসম্মত সেবা পেতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যবস্থায় উত্তরণ সরকারের লক্ষ্য। প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরার ভাষ্য, নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের সুফল পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতিতেও পড়ে। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কর্মসূচিটি প্রণয়নে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করেছে ইউএনএফপিএ। সংস্থাটি বাস্তবায়ন পর্যায়েও কারিগরি সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়েছে। এ কাজে ইউএনএফপিএর উদ্ভাবন কর্মসূচি ‘উইমেনএক্স কালেকটিভ’ যুক্ত রয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক দিন কিতাও নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগকে টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রস্তাবিত অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি নতুন ঋণ নয়; ২০২১ সালে বাংলাদেশের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুমোদিত ইআইবির একটি সার্বভৌম ঋণের অর্থ থেকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই অর্থ নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং জেলা হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বৈঠকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বার্লিনের চ্যারিটি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও ক্যানসার স্ক্রিনিং সুবিধা পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আগামীকাল রোববার বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের একটি প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) বিদ্যমান ঋণ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা) ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ‘উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ নামে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জার্মানির বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট (ডব্লিউএইচএস) ২০২৬ উপলক্ষে আজ শনিবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বার্লিনের চ্যারিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং জরুরি প্রসূতি ও নবজাতকসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগী স্থানান্তর ও রেফারেল ব্যবস্থা, জেলা হাসপাতাল এবং নিবিড় পরিচর্যা সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বলা হয়েছে, নারীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারী ও মেয়েদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য মৌলিক বিষয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্ব পায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বসবাসের কাছাকাছি মানসম্মত সেবা পেতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যবস্থায় উত্তরণ সরকারের লক্ষ্য। প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরার ভাষ্য, নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের সুফল পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতিতেও পড়ে। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কর্মসূচিটি প্রণয়নে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করেছে ইউএনএফপিএ। সংস্থাটি বাস্তবায়ন পর্যায়েও কারিগরি সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়েছে। এ কাজে ইউএনএফপিএর উদ্ভাবন কর্মসূচি ‘উইমেনএক্স কালেকটিভ’ যুক্ত রয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক দিন কিতাও নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগকে টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রস্তাবিত অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি নতুন ঋণ নয়; ২০২১ সালে বাংলাদেশের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুমোদিত ইআইবির একটি সার্বভৌম ঋণের অর্থ থেকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই অর্থ নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং জেলা হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বৈঠকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বার্লিনের চ্যারিটি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও ক্যানসার স্ক্রিনিং সুবিধা পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আগামীকাল রোববার বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের একটি প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত