ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

রংতুলিতে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে স্মরণ



রংতুলিতে বরেণ্য  চিত্রশিল্পী এস এম  সুলতানকে স্মরণ
রংতুলিতে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে স্মরণ

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে শিশু-কিশোরদের দিনব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নড়াইলের ঐতিহাসিক ‘সুলতানের শিশুস্বর্গ’ প্রাঙ্গণে এ বর্ণিল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের রংতুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ রূপসী বাংলা, চিরচেনা প্রকৃতি, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের প্রতিকৃতি এবং বাংলাদেশের গৌরবান্বিত ইতিহাস ও সংস্কৃতি।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা চলাকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী নিখিল দাস, চিত্রশিল্পী সাকি এবং এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও নড়াইল প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহ জোগান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মহান এই চিত্রশিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আজ শনিবার সকালে সংগ্রহশালা চত্বরে এস এম সুলতানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন, রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত, স্মারক আলোচনা সভা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরেণ্য শিল্পগুরু এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবি। চিত্রশিল্পে অসাধারণ ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা লাভ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর প্রাপ্তি অসামান্য; কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং স্বনামধন্য এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন। মহান এই শিল্পীর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে মর্যাদাপূর্ণ ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ দেওয়া হয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


রংতুলিতে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে স্মরণ

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে শিশু-কিশোরদের দিনব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নড়াইলের ঐতিহাসিক ‘সুলতানের শিশুস্বর্গ’ প্রাঙ্গণে এ বর্ণিল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের রংতুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ রূপসী বাংলা, চিরচেনা প্রকৃতি, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের প্রতিকৃতি এবং বাংলাদেশের গৌরবান্বিত ইতিহাস ও সংস্কৃতি।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা চলাকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী নিখিল দাস, চিত্রশিল্পী সাকি এবং এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও নড়াইল প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহ জোগান। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মহান এই চিত্রশিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আজ শনিবার সকালে সংগ্রহশালা চত্বরে এস এম সুলতানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন, রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত, স্মারক আলোচনা সভা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরেণ্য শিল্পগুরু এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবি। চিত্রশিল্পে অসাধারণ ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা লাভ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর প্রাপ্তি অসামান্য; কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং স্বনামধন্য এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন। মহান এই শিল্পীর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে মর্যাদাপূর্ণ ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ দেওয়া হয়।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত