কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের একটি কার্যালয়ে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগ উঠেছে এক সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ যন্ত্রটি বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তাঁরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযুক্তের নাম আবদুলরহমান আলফোজান। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপেনএআইয়ে কর্মরত ছিলেন এই প্রযুক্তিবিদ। তাঁর বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে মৌখিক কথোপকথন গোপনে ধারণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোয় তাদের কার্যালয়ে গোপন করা একটি ‘জটিল প্রযুক্তির রেকর্ডিং যন্ত্র’ তারা খুঁজে পায়। এরপর এফবিআইকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে তারা শনাক্ত করতে সক্ষম হয় যে একজন কর্মী যন্ত্রটি সেখানে বসিয়েছিলেন।
একটি নির্বাহী সম্মেলনকক্ষের টেলিভিশনের পেছনের ইউএসবি পোর্টে টয়লেট পেপারে মোড়ানো যন্ত্রটি ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানান কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা।
জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের সোর্স কোড, মডেলের ওয়েট বা গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার কিংবা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এমন কোনো ইঙ্গিত তারা পায়নি। অভিযুক্ত কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, আলফোজান গোপনে সংবেদনশীল কথোপকথন রেকর্ড করার উদ্দেশ্যে নিয়োগকর্তার নির্বাহী সম্মেলনকক্ষে একটি রেকর্ডিং যন্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের কর্মীরা যন্ত্রটি খুঁজে পান। কৌঁসুলিদের অভিযোগ, এর দুই দিন আগে যন্ত্রটি সেখানে বসানো হয়েছিল। যন্ত্রটিতে এনক্রিপশন বা তথ্য সুরক্ষার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
ওপেনএআই বলেছে, তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে যন্ত্রটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং সেটি কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা জানতে পারে, কয়েক দিন আগে প্রতিষ্ঠানের একজন নির্দিষ্ট কর্মী যন্ত্রটি বসিয়েছিলেন।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওপেনএআইয়ের সংবেদনশীল স্থানগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং গোপনে অডিও রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম বসানোর পদ্ধতি জানতে একটি ‘উৎপাদনশীলতা-বিষয়ক টুল’ ও একটি ‘চ্যাটবট’ ব্যবহার করেছিলেন।
কৌঁসুলিদের অভিযোগ, তিনি চ্যাটবটে এমন কিছু বিষয় অনুসন্ধান করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল একটি যন্ত্র তৈরি, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেটির পরিবর্তন, স্থাপন, অডিও রেকর্ডিং, পরীক্ষা, আড়াল করা এবং দূর থেকে সেটিতে প্রবেশের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া ‘একটানা অডিও রেকর্ডার তৈরি’, ‘ওয়াই-ফাই সংযোগ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন’, ‘অডিও ও সরাসরি শোনার মান উন্নত করা’ এবং ‘এসডি কার্ড এনক্রিপ্ট করা’ নিয়েও তিনি চ্যাটবটে প্রশ্ন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৌঁসুলিদের দাবি, গত ৫ অক্টোবর যন্ত্রটি পরীক্ষা করতে আবার ওই কক্ষে গিয়েছিলেন আলফোজান। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁকে ঘটনাস্থলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। একই দিন ভবনের অন্য একটি স্থানে একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যান তিনি। ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যাগটি খুলে তাঁর মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র পান। এ ছাড়া সম্মেলনকক্ষে পাওয়া যন্ত্রটির মতো আরেকটি রেকর্ডিং যন্ত্রও ব্যাগে ছিল বলে কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন আলফোজান। তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে।
মতামত