প্রবাসে শত ব্যস্ততার মধ্যে সময় বের করে বাঙালি আবহে আনন্দে মেতে ওঠা বাংলাদেশিদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের উচিটা শহরে গত শনিবার ওয়ার্টসন পার্কে প্রকৃতির ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশে ‘উচিটা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন’–এর বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খাসির রেজালা, মুরগির রোস্ট ও সুস্বাদু মুগডাল দিয়ে জম্পেশ খাওয়া শেষে যারপরনাই খুশিতে দাদা খোকন জুনিয়র খোকনের জন্মোৎসবের কেক কেটে শত শত বাংলাদেশি কমিউনিটিকে মিষ্টিমুখ করালেন। দুপুর ১২টা থেকে যে যার মতো বাঙালিয়ানা সাজে সেজেগুজে পার্কে জড়ো হতে থাকেন। কানসাস অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর উচিটা, যার আয়তন ঢাকা শহরের দ্বিগুণ। এখানে রয়েছে হাজারো বাংলাদেশির সহাবস্থান। বছরে এক-দুবার এভাবে একত্র হওয়ার সুযোগ হয়। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজ নিজ বাসা থেকে খাবার নিয়ে বছরে একবার একত্র হয়ে ছোট আকারে ‘পোটলাক’ করতেন। পরে ধীরে ধীরে কমিউনিটির আকার বাড়তে থাকায় এক যুগ ধরে মিড কন্টিনেন্ট বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যানসাস, পরবর্তী সময়ে ‘উচিটা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সবার সহযোগিতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিসহ পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ইনোভেটিভ লিডারশিপে অবদান রেখে চলেছে।
শনিবার উচিটা বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক-উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। জেনারেশন আলফা, মিলিনিয়ালস, জেন-জি এবং জেনএক্সের হাসি-আনন্দে ওয়াটসন পার্ক প্রকৃতি যেন অন্য রকম সেজেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে মিলিনিয়ালসরা স্মার্ট ডিভাইস টেবিলে রেখে নতুন প্রজন্মদের (জেনারেশন আলফা) হাত ধরে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যেতে দেখা যায়। দিনভর বিভিন্ন রকমের ফ্যান গেমে ব্যস্ত রাখতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে নানা রঙের আয়োজন। অনুষ্ঠানে আগত মায়েদের জন্য ছিল ভিন্ন রকমের আয়োজন। সব মিলে এবারের আয়োজন ছিল স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো অন্য রকম। দিনশেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম টিপু উচিটা কমিউনিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর আয়োজনের প্রত্যাশা রেখে সমাপ্তি টানেন।
মতামত