ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

জেনে নিন, কোন সময় কফি পানে ঘুম হয় না



জেনে নিন, কোন সময় কফি পানে ঘুম হয় না
জেনে নিন, কোন সময় কফি পানে ঘুম হয় না

সকালের অলসতা কাটাতে কিংবা কাজের টেবিলে একটু চাঙা ভাব আনতে আমাদের প্রথম ভরসা এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি বা চা। তবে দিনের ক্লান্তি দূর করতে যে তরলকে আমরা সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে ভাবি, বিকেলের দিকে সেটাই আবার হয়ে উঠতে পারে আমাদের রাতের ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। ধরুন, সারা দিন খাটাখাটনির পর রাতে আপনি বিছানায় শুয়েছেন। ক্লান্ত শরীর নিয়ে কোনোভাবেই চোখ দুটো এক করতে পারছেন না। মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে নানান চিন্তা। এই যে ঘুমের জন্য আকুল আকুতি অথচ ঘুম আসছে না, এর পেছনে অনেক সময় দায়ী থাকে বিকেলে পান করা শেষ কাপ কফিটি। ক্যাফেইন কীভাবে আমাদের ঘুম কেড়ে নেয় এবং কেন এটি শরীরকে একটি দুষ্টচক্রের দিকে ঠেলে দেয়, তার পেছনের বৈজ্ঞানিক সত্য জানা প্রতিটি মানুষের জন্যই জরুরি।

ক্যাফেইন মানবদেহে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে হলে এডিনোসিন নামের কেমিক্যালের কাজ জানা প্রয়োজন। আমরা যখন জেগে থাকি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে এডিনোসিন জমা হতে থাকে। এটি যত বেশি জমে, আমাদের শরীর তত বেশি ক্লান্ত ও ঘুম ঘুম অনুভব করে। ক্যাফেইন হলো একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক। এটি মস্তিষ্কের এডিনোসিন গ্রাহক বা রিসিভারগুলোকে ব্লক করে দেয়। ফলে এডিনোসিন জমে থাকা সত্ত্বেও মস্তিষ্ক তা বুঝতে পারে না এবং ক্লান্তি অনুভব না করে সজাগ থাকে।

ঘুমের ওপর ক্যাফেইনের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। কম ঘুম হওয়া বা দেরিতে ঘুম আসার পাশাপাশি এটি আমাদের গভীর ও স্বস্তিদায়ক স্লো-ওয়েভ স্লিপ কমিয়ে দেয়। স্লিপ ফাউন্ডেশন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, বিকেলে নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ করেন এমন ৮৮ শতাংশ মানুষ অন্তত একজন হলেও ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল স্লিপ মেডিসিন’ ও ‘এলসেভিয়ার’-এর তথ্য অনুসারে, ক্যাফেইন ঘুমের সময়কাল কমানোর পাশাপাশি ঘুমের গুণগত মান নষ্ট করে, ফলে পরদিন সকালে উঠে সতেজ বোধ হয় না।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষ পরদিন আবার চাঙা হতে আরও বেশি ক্যাফেইনের ওপর নির্ভর করে। কম ঘুম মানে ক্যাফেইনের চাহিদা বৃদ্ধি আর বেশি ক্যাফেইন মানে রাতের ঘুম আরও নষ্ট হওয়া। আর এভাবেই তৈরি হয় এক বিষাক্ত ও ক্ষতিকর চক্র। দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত ঘুম হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ক্যাফেইন কখনোই ভালো ঘুমের বিকল্প হতে পারে না। তাই শরীর ও সুস্থতার খাতিরে বিকেলের শেষ কাপ কফিটিকে না বলাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, রাতে ঘুমানোর অন্তত ৮ ঘণ্টা আগে যেকোনো ধরনের ক্যাফেইনযুক্ত খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। ক্যাফেইনের প্রতি একেকজনের শরীরের সহনশীলতা একেক রকম হলেও বিকেলে কফির বদলে নিয়মিত ব্যায়াম করা, সঠিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে হালকা একটু দিবা ঘুম দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।

সূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন, আটলান্টিক হেলথ সিস্টেম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


জেনে নিন, কোন সময় কফি পানে ঘুম হয় না

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সকালের অলসতা কাটাতে কিংবা কাজের টেবিলে একটু চাঙা ভাব আনতে আমাদের প্রথম ভরসা এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি বা চা। তবে দিনের ক্লান্তি দূর করতে যে তরলকে আমরা সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে ভাবি, বিকেলের দিকে সেটাই আবার হয়ে উঠতে পারে আমাদের রাতের ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। ধরুন, সারা দিন খাটাখাটনির পর রাতে আপনি বিছানায় শুয়েছেন। ক্লান্ত শরীর নিয়ে কোনোভাবেই চোখ দুটো এক করতে পারছেন না। মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে নানান চিন্তা। এই যে ঘুমের জন্য আকুল আকুতি অথচ ঘুম আসছে না, এর পেছনে অনেক সময় দায়ী থাকে বিকেলে পান করা শেষ কাপ কফিটি। ক্যাফেইন কীভাবে আমাদের ঘুম কেড়ে নেয় এবং কেন এটি শরীরকে একটি দুষ্টচক্রের দিকে ঠেলে দেয়, তার পেছনের বৈজ্ঞানিক সত্য জানা প্রতিটি মানুষের জন্যই জরুরি।

ক্যাফেইন মানবদেহে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে হলে এডিনোসিন নামের কেমিক্যালের কাজ জানা প্রয়োজন। আমরা যখন জেগে থাকি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে এডিনোসিন জমা হতে থাকে। এটি যত বেশি জমে, আমাদের শরীর তত বেশি ক্লান্ত ও ঘুম ঘুম অনুভব করে। ক্যাফেইন হলো একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক। এটি মস্তিষ্কের এডিনোসিন গ্রাহক বা রিসিভারগুলোকে ব্লক করে দেয়। ফলে এডিনোসিন জমে থাকা সত্ত্বেও মস্তিষ্ক তা বুঝতে পারে না এবং ক্লান্তি অনুভব না করে সজাগ থাকে।

ঘুমের ওপর ক্যাফেইনের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। কম ঘুম হওয়া বা দেরিতে ঘুম আসার পাশাপাশি এটি আমাদের গভীর ও স্বস্তিদায়ক স্লো-ওয়েভ স্লিপ কমিয়ে দেয়। স্লিপ ফাউন্ডেশন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, বিকেলে নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ করেন এমন ৮৮ শতাংশ মানুষ অন্তত একজন হলেও ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল স্লিপ মেডিসিন’ ও ‘এলসেভিয়ার’-এর তথ্য অনুসারে, ক্যাফেইন ঘুমের সময়কাল কমানোর পাশাপাশি ঘুমের গুণগত মান নষ্ট করে, ফলে পরদিন সকালে উঠে সতেজ বোধ হয় না।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষ পরদিন আবার চাঙা হতে আরও বেশি ক্যাফেইনের ওপর নির্ভর করে। কম ঘুম মানে ক্যাফেইনের চাহিদা বৃদ্ধি আর বেশি ক্যাফেইন মানে রাতের ঘুম আরও নষ্ট হওয়া। আর এভাবেই তৈরি হয় এক বিষাক্ত ও ক্ষতিকর চক্র। দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত ঘুম হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ক্যাফেইন কখনোই ভালো ঘুমের বিকল্প হতে পারে না। তাই শরীর ও সুস্থতার খাতিরে বিকেলের শেষ কাপ কফিটিকে না বলাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, রাতে ঘুমানোর অন্তত ৮ ঘণ্টা আগে যেকোনো ধরনের ক্যাফেইনযুক্ত খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। ক্যাফেইনের প্রতি একেকজনের শরীরের সহনশীলতা একেক রকম হলেও বিকেলে কফির বদলে নিয়মিত ব্যায়াম করা, সঠিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে হালকা একটু দিবা ঘুম দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।

সূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন, আটলান্টিক হেলথ সিস্টেম


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত