গত এক সপ্তাহ আমার গাড়িচালক ছুটিতে ছিল এবং ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন উত্তরা-গুলশান-উত্তরা রুটে দুই বেলা গাড়ি চালিয়ে আমার নতুন কিছু উপলব্ধি হলো। এখানে শেয়ার করছি এই আশায়, যদি কোনো কর্তাব্যক্তির নজরে পড়ে এবং Innovation-এ বিশ্বাসী হলে তিনি বিষয়টি আমলে নেবেন।
১. ঢাকা-গাজীপুর রুটের বিআরটি প্রকল্পটি ব্যর্থ হলেও এর সুফল ভোগ করছেন অনেকেই। মোটামুটি নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায় এই অংশে। কিন্তু রাস্তায় লেন ডিভাইডার বা মার্কিং নেই। অনেকেই (যাঁরা নতুন) ভুল করে ডানের লেনে চলে যান, যেটা এই রাস্তার জন্য Wrong Way!
কোথাও কোথাও কি অন্তত একটা করে রোড সাইন দেওয়া যেত না?
২. রাতে ড্রাইভ করার সময় চোখে তীব্র আলো এসে লাগে বিপরীত দিক থেকে আসা SUV গাড়ি / বাস/ ট্রাকের (যাদের হেডলাইট সেডানের তুলনায় বেশ উঁচুতে) হেডলাইটের কারণে। এককালে সরকার হেড লাইটের কপাল বরাবর কালো রং বা টেপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল। কালের আবর্তে সেই Bulb থেকে এখন LED লাইট এসেছে—আর আলোর তীব্রতা অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে। এটা নিয়ে বিআরটিএ উদাসীন কেন?
৩. Bus Bay থাকা সত্ত্বেও বাসগুলো রাস্তার চলমান লেনেই দাঁড়িয়ে থাকে। ট্রাফিক পুলিশের কাজ হলো চাঁদা নিয়ে এসব অনিয়মকে নিয়ম বানাতে সহায়তা করা। যাত্রীরাও চলন্ত বাসে ওঠানামা করতে আগ্রহী। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশকে মনিটরিং করার দায়িত্ব কার?
৪. সিগন্যাল না মানলে ড্রাইভার বা গাড়ির মালিককে জরিমানা করা হয়। আজকাল ডেঙ্গু মশার মতো বংশবিস্তার করছে অটোরিকশা। তারা কোনো সিগন্যালের তোয়াক্কা করে না। সম্ভবত, তাদের মালিক সমিতি মাসিক চুক্তিতে চলে এসেছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে। কাজেই তারা ক্রমেই বেয়াদব/বেপরোয়া থেকে ‘উন্নীত’ হয়ে সহজাত অপরাধীর পর্যায়ে চলে গেছে। এদের যারা নিয়ন্ত্রণ করবে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে কে?
৫. ট্রাফিক পুলিশকে আজকাল আমার চাঁদাবাজ বা ফেরিওয়ালা বলেই মনে হয়। যেন দিনের ‘সেলস টার্গেট’ ঠিক করে তারা পথে নেমেছে। মামলা দিতেই হবে, সেটা যে ধারায়ই হোক। এবং ডাকাতের মতো তারা গাড়ির কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। হাস্যকর কয়েকটি মামলার উদাহরণ দিই:
*গাড়ি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিল, মামলা দেওয়া হলো চলাচলে বাধা প্রদানের!
*চলন্ত গাড়ি থামিয়ে বলা হলো জানালার গ্লাসের রং কালো। স্টিকার লাগানো যাবে না, টিন্ট করা যাবে। মামলা অবধারিত।
*দুরন্ত গতির অটোরিকশার ধাক্কায় সামনের নম্বরপ্লেট বাঁকা হয়ে ঢুকে গেছে বাম্পারের ভেতর। মামলা দেওয়া হলো নম্বরপ্লেট ঢেকে গাড়ি চালানোর অপরাধে।
আমি এসব নিয়ে আদালত পর্যন্ত যেতে চেয়েছিলাম। মন্ত্রণালয়ের ভেতরে থাকা এক শুভাকাঙ্ক্ষী পরামর্শ দিলেন, এসব করে শত্রু বাড়িয়ে লাভ নেই। কাজেই প্রতিদিন অনেক অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে যেমন চলছিলাম, তেমনই চলছি। মনে মনে আউড়াই, ছেলেবেলায় পড়া কবি শামসুর রাহমানের সেই কবিতা, ‘অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ....’
*লেখক: কাজী মনজুর করিম মিতুল, প্রকৌশলী
মতামত