সাধারণত টেস্ট ক্রিকেটে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ কোনও ব্যাটার আউট হলে অনেক সময় দেখা যায়, পরের ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসছেন দলের কোনও বোলার। ব্যাটিংয়ে দক্ষতার জন্য তাকে নামানো হয় না। মূলত দিন শেষে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের আউটের ঝুঁকি এড়াতেই নেওয়া হয় এই কৌশল। ক্রিকেটের পরিভাষায় এই নন-স্পেশালিস্ট ব্যাটারকেই বলা হয় ‘নাইটওয়াচম্যান’।
কখন ব্যবহার করা হয় এই কৌশল?
টেস্টে দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে কোনও স্বীকৃত ব্যাটার আউট হলে সাধারণত ব্যাটিং দল একজন বোলার বা তুলনামূলক কম দক্ষ ব্যাটারকে ক্রিজে পাঠায়। উদ্দেশ্য, দিনের বাকি ওভারগুলো পার করে দেওয়া। যাতে পরদিন সকালে দলের অন্য স্বীকৃত ব্যাটার নতুন করে ইনিংস শুরু করতে পারেন।
দিনের শেষভাগে আলো কমে আসা ও মাঠে ছায়া পড়ার কারণে ব্যাটিং কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দলের সেরা ব্যাটারকে নামিয়ে আরেকটি উইকেট হারানোর ঝুঁকি নিতে চায় না কেউ। বরং পরদিন সকালের অনুকূল পরিবেশে তাদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এই কৌশল নেয় সংশ্লিষ্ট দল।
কারা হন নাইটওয়াচম্যান?
সাধারণত এমন একজন বোলারকে পাঠানো হয়, যার রক্ষণাত্মক ব্যাটিং কৌশল মোটামুটি ভালো। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাকে প্রতিপক্ষের কঠিন বোলিং সামলাতে হয়। অনেক সময় প্রতিপক্ষের পেসাররা শর্ট বল করে তাকে অস্বস্তিতে ফেলতে এবং ভুল শট খেলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
ভালো নাইটওয়াচম্যানের গুণ কী?
নাইটওয়াচম্যানের মূল কাজ দ্রুত রান তোলা নয়, বরং উইকেট আগলে রাখা। প্রয়োজনে রক্ষণাত্মক কৌশল এবং প্রতিপক্ষ পেসারদের বাউন্সার বা দ্রুতগতির বল সামলানোর মানসিকতা এর বৈশিষ্ট্য।
দিনের বাকি সময়টা উইকেটে টিকে থেকে পরদিন পর্যন্ত ইনিংস এগিয়ে নিতে পারলেই নাইটওয়াচম্যান তার কাজ সফলভাবে করেছেন বলে ধরা হয়।
নাইটওয়াচম্যান হয়েও কি সেঞ্চুরি করেছেন কেউ?
নাইটওয়াচম্যানের কাজ মূলত উইকেট বাঁচানো হলেও কেউ কেউ পরদিন সকালে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষের বোলারদের হতাশ করেছেন। এমনকি এই ভূমিকায় নেমে সেঞ্চুরিও করেছেন অনেকে।
১৯৬২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০১ রান করে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি করেন পাকিস্তানের নাসিম-উল-গনি। ১৯৭৭ সালে পার্থে ভারতের বিপক্ষে ১০৮ রান করে দ্বিতীয় নাইটওয়াচম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করেন অস্ট্রেলিয়ার টনি মান।
পরে এই তালিকায় নাম লেখান অস্ট্রেলিয়ার জেসন গিলেস্পি। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেন তিনি। ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার অ্যালেক্স টিউডরও ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। এজবাস্টনে তার অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংসে সাত উইকেটের জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।
মতামত