ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঘোচাতে হবে



বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঘোচাতে হবে
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঘোচাতে হবে

আমাদের শিশুরা কতটা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে, তার একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ থেকে ২০২৬—এই ছয় বছরে দেশে ৩ হাজার ৪৮৭ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে ২ হাজার ৫৯৮ শিশুকে এবং পঙ্গুত্ব কিংবা গুরুতর আঘাত নিয়ে চরম ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছে ১১ হাজার ৪৫৮ শিশু। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার কেউই শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এর চেয়ে বড় অশনিসংকেত আর কী হতে পারে? 

এইচআরএসএসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ছয় বছরে দেশে ঘটে যাওয়া মোট ৬ হাজার ১৫৩টি ধর্ষণের ঘটনার অর্ধেকের বেশি শিকার হয়েছে নিষ্পাপ শিশুরা। চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্ষণের পর ১৩১ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ১ হাজার ২৫৫টি শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এই সংখ্যাগুলোর প্রতিটি একটি করে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবনের গল্প, একটি করে পরিবারের আজীবনের কান্না।

আমাদের সংবিধানে এবং দেশে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশুদের সুরক্ষায় নানা কঠোর বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অপরাধীরা প্রায়ই আইনি ফাঁকফোকর, রাজনৈতিক প্রভাব বা সামাজিক নীরবতার সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যায়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূলত শিশু নির্যাতনকারীদের দিনের পর দিন আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

শিশুদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা বন্ধে এখনই রাষ্ট্র ও সমাজকে কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তপ্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের অবহেলা বা আপসকামিতা বন্ধ করে যথাযথ চার্জশিট দাখিল নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাড়া–মহল্লা পর্যায়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সচেতনতামূলক জোরদার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার যাতে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে না পড়ে, তার আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

একটি দেশ কতটা সভ্য বা উন্নত, তার অন্যতম মাপকাঠি হলো সেখানে শিশুরা কতটা নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারছে। আমরা যদি আমাদের শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপদ একটি সমাজ দিতে না পারি, তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।  বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ে তোলা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় তাগিদ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঘোচাতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আমাদের শিশুরা কতটা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে, তার একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ থেকে ২০২৬—এই ছয় বছরে দেশে ৩ হাজার ৪৮৭ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে ২ হাজার ৫৯৮ শিশুকে এবং পঙ্গুত্ব কিংবা গুরুতর আঘাত নিয়ে চরম ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছে ১১ হাজার ৪৫৮ শিশু। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার কেউই শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এর চেয়ে বড় অশনিসংকেত আর কী হতে পারে? 

এইচআরএসএসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ছয় বছরে দেশে ঘটে যাওয়া মোট ৬ হাজার ১৫৩টি ধর্ষণের ঘটনার অর্ধেকের বেশি শিকার হয়েছে নিষ্পাপ শিশুরা। চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্ষণের পর ১৩১ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ১ হাজার ২৫৫টি শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এই সংখ্যাগুলোর প্রতিটি একটি করে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবনের গল্প, একটি করে পরিবারের আজীবনের কান্না।

আমাদের সংবিধানে এবং দেশে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশুদের সুরক্ষায় নানা কঠোর বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অপরাধীরা প্রায়ই আইনি ফাঁকফোকর, রাজনৈতিক প্রভাব বা সামাজিক নীরবতার সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যায়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূলত শিশু নির্যাতনকারীদের দিনের পর দিন আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

শিশুদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা বন্ধে এখনই রাষ্ট্র ও সমাজকে কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তপ্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের অবহেলা বা আপসকামিতা বন্ধ করে যথাযথ চার্জশিট দাখিল নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাড়া–মহল্লা পর্যায়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সচেতনতামূলক জোরদার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার যাতে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে না পড়ে, তার আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

একটি দেশ কতটা সভ্য বা উন্নত, তার অন্যতম মাপকাঠি হলো সেখানে শিশুরা কতটা নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারছে। আমরা যদি আমাদের শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপদ একটি সমাজ দিতে না পারি, তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।  বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ে তোলা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় তাগিদ।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত