সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বৈশ্বিক বায়ুদূষণের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান হয়েছে পঞ্চম। এই তালিকায় বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পাকিস্তানের লাহোর শীর্ষ স্থান দখল করেছে। উল্লেখ্য, এই তালিকায় ঢাকার পাশাপাশি ভারতের কয়েকটি শহরও শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বায়ুগুণগত মানের উদ্বেগজনক অবনতি নির্দেশ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার এই অবস্থানের পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, শিল্পকারখানার বর্জ্য, নির্মাণকাজের ধুলো এবং আবহাওয়াগত প্রভাব। শীতকালে বায়ুচলাচল কমে যাওয়ায় দূষিত উপাদানগুলো নিম্নস্তরে জমা হয়ে থাকে, যা শহরের বায়ুমানকে আরও নাজুক করে তোলে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, চোখের জ্বালাপোড়া এবং হৃদরোগের মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্তরেই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যানবাহন নির্গমন মান বাস্তবায়ন, শিল্পকারখানায় পরিবেশগত মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং গ্যাসের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের প্রসার এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নগর পরিকল্পনায় সবুজ জায়গা বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন অপরিহার্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকার তুলনায় ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। আগামী দিনে বায়ুমান উন্নত করার লক্ষ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।