সম্প্রতি ইসলামি পণ্ডিত ও ফিকহ বিশারদদের মধ্যে তাবিজ পরার জাইযতা নিয়ে আলোচনা তীব্রভাবে চলেছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা ও মসজিদে এই বিষয়টি নিয়ে ফতোয়া জারি করা হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের বড় অংশকে প্রভাবিত করছে। শারিয়ত অনুসারে তাবিজের বৈধতা নির্ভর করে তার বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্যের ওপর। কিছু পণ্ডিতের মতে, যদি তাবিজে কোরআনের আয়াত বা নবী মুহাম্মদ (সা.)র হাদিস অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং তা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা অনুমোদিত হতে পারে। অন্যদিকে, অন্য পণ্ডিতরা এটিকে শির্কের সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন এবং নিষিদ্ধ করার পক্ষে যুক্তি দেন, কারণ তাবিজের মাধ্যমে অতিপ্রাকৃত শক্তির ওপর নির্ভরতা শৈতানী প্রভাবের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ে তাবিজের ব্যবহার ঐতিহ্যগতভাবে ব্যাপক, বিশেষ করে রোগ, দুর্ভাগ্য বা শত্রুতা থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে। তবে আধুনিক সময়ে এই প্রথা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে, কারণ অনেক মানুষ তাবিজকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বদলে জাদু-টোনার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে, ধর্মীয় নেতারা সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান প্রদানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে ধর্মীয় সংস্থা ও সরকারী মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তাবিজ সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করছে। এটি মুসলিম জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি কমিয়ে, শারিয়ত অনুযায়ী সঠিক ধর্মীয় চর্চা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।