চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাদুঘরটি দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রহের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রাচীন মুদ্রা, নিদর্শন, চিত্রকর্ম এবং ঐতিহাসিক নথিপত্রের বিস্তৃত সংগ্রহ রয়েছে। তবে এই বিশাল ঐতিহাসিক ধনসম্পদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এখনো অনেকটাই অচেনা ও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। জাদুঘরটির সংগ্রহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত প্রাচীন নিদর্শন, স্থানীয় শিল্পকর্ম এবং ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত বস্তুপুঞ্জ রয়েছে। এই সংগ্রহগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জাদুঘরটির সঠিক ব্যবস্থাপনা, প্রদর্শনীর নবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির অভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এটি একটি জীবন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই জাদুঘরটির অস্তিত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন বা এটিকে মূলত একটি ধুলোমাখা ভবন হিসেবেই চেনেন। ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সঠিক প্রদর্শন এবং সেগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে ঐতিহাসিক জ্ঞান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, চবি জাদুঘরকে একটি আধুনিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, ডিজিটাল প্রদর্শনী চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গাইড ট্যুর আয়োজন করা উচিত। এতে করে শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সাথে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারবেন এবং দেশের ঐতিহাসিক ধনসম্পদের সঠিক মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।