একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় ইউরোপীয় অর্থনীতিতে ইরান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি ১০০ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি হয়েছে বলে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ক্ষতি মূলত ২০২৩ সালের শেষ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ঘটিত সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাঘাত, জ্বালানি মূল্যের উত্থান এবং আর্থিক বাজারের অস্থিরতার ফলে হয়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউরোপের জ্বালানি, বিমান ও মহাকাশ, কৃষি এবং উচ্চ প্রযুক্তি খাতগুলো বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইন্ধন আমদানি কমে যাওয়ায় জ্বালানি মূল্য বেড়েছে, ফলে শিল্প উৎপাদন ও গৃহস্থালী ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে, ইরানের উপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ইরানীয় বাজারে প্রবেশকে সীমিত করেছে, যা রপ্তানি আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে, এই আর্থিক ক্ষতি শুধুমাত্র সরাসরি বাণিজ্যিক ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশলগত ঝুঁকিও সৃষ্টি করেছে। শিল্প সমিতি গুলিও জানিয়েছে যে, ইউরোপীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল গড়ে তোলার এবং খরচ কমানোর জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন, যদি সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় বা নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। তবে, কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি যদি সফল হয়, তবে ইউরোপীয় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও ক্ষতি হ্রাসের সম্ভাবনা রয়ে যাবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।