চাঁদপুরে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের পাঁচ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে চালসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
রোববার মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে জেলেদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা এসব চাল বিতরণের কথা ছিল সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই চাল জেলেদের মধ্যে বিতরণ না করে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে ওই ব্যবসায়ী চালগুলো লাকসাম নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, চাল পরিবহনের বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিরোধের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। পরে হাজীগঞ্জ থেকে পিকআপটি চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ টন চাল জব্দ করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম। জব্দ করা চাল পরে চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি) গুদামে রাখা হয়। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
চালগুলোর ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইউনুস দাবি করেন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় পাঁচ টন চাল কিনেছেন তিনি। দুপুরে খাদ্যগুদাম থেকে চালগুলো জেলার বাইরে পাঠাচ্ছিলেন। পথে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে প্রশাসনের নির্দেশে চালের গাড়িটি চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইউনুসের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীম অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘গুদাম থেকে চালগুলো ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু পরে খবর পাই চালগুলো অন্য কোথাও নিয়ে গেছে। চাল বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে।’
চাঁদপুর সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছেন তারা। এতে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অন্যায় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তারা অভিযান চালিয়ে পাঁচ টন চাল জব্দ করেছেন। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
খবর পেয়ে বিকেলে প্রত্যয় হাসেম ও মির্জা ওমর ফারুক চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় চাল ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মতামত