মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার, অনুমোদনহীন ফার্মেসি পরিচালনা ও নিয়মবহির্ভূতভাবে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে হোসনেআরা সুমি নামের এক নারীকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার পরিচালিত লং লাইফ মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেড সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার কমলাঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুন্না খাতুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন।
সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম জানান, হোসনেআরা সুমি নিজের নামের সঙ্গে ‘এমবিবিএস সমমান’ ডিগ্রি ব্যবহার করছিলেন। অথচ এ ধরনের ডিগ্রির কোনো স্বীকৃতি নেই। চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০১০ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনে এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কারও চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, ওই নারী আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় পড়াশোনা করেছেন বলে দাবি করলেও অভিযানে তাকে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার প্রতিষ্ঠানে ওষুধ বিক্রির জন্য একটি ছোট ফার্মেসি থাকলেও সেটির কোনো লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে হাসপাতালের ব্যানার ও পোস্টার থাকলেও হাসপাতাল পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেখা যায়নি। সেখানে কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। একটি কক্ষকে অপারেশন থিয়েটারের মতো মনে হলেও সেটি তালাবদ্ধ ছিল। এ ছাড়া হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়নি।
এসব অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোসনেআরা সুমিকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি
মতামত