ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

‎সংস্কৃতিচর্চায় ভীতি ও বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্বেগ



‎সংস্কৃতিচর্চায় ভীতি ও বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্বেগ
‎সংস্কৃতিচর্চায় ভীতি ও বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্বেগ

‎দেশের সাংস্কৃতিক চর্চায় ভীতির পরিবেশ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিককর্মীরা। তাদের মতে, লোকজ সংস্কৃতির চর্চা সংকুচিত হচ্ছে এবং গণমানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির দূরত্ব বাড়ছে। সংস্কৃতির বিকাশ ও সমাজের অস্থিরতা দূর করতে এ পরিস্থিতির উত্তরণ জরুরি বলেও মনে করেন তারা।

‎নাট্যসংগঠন ‘নাট্যকেন্দ্র’র তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা বক্তারা এসব কথা বলেন। রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

‎এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৌকীর আহমেদ। প্রবন্ধটি উপস্থাপনা করেন সংগীতা চৌধুরী। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য ইকবাল বাবু।

‎আলোচনায় অংশ নিয়ে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, সরকারের অবস্থান থেকে সংস্কৃতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করা যায় না; এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গেও নয়।

তিনি বলেন, সমাজ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, অথচ সেখানে সংস্কৃতির আলো পৌঁছাচ্ছে না। নাচ, গান ও কবিতার বহিঃপ্রকাশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লেখকদের হিন্দু-মুসলমান পরিচয়ে বিভক্ত করা হচ্ছে। কে বাংলাদেশি, আর কে ভিনদেশি, সেই বিভাজনও তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির উত্তরণ জরুরি।

‎মোহাম্মদ বারী বলেন, দেশ ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের ঘটনাও তাদের প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের কেবল ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।

‎নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, ইউনূসের সময়েও মবের বিরুদ্ধে থিয়েটারের মানুষেরা প্রতিবাদ করেছে। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপন করা হয়েছে, কিন্তু আরেকজন রিকশাচালক পানি এনে সেই মুখ পরিষ্কার করেছেন। কুষ্টিয়ায় হারমোনিয়াম বাজছে, গানও হচ্ছে; তবে এখন অনেক ক্ষেত্রে গোপনে। তাই সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বা এর চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটা বলা যায় না।

‎বাবুল বিশ্বাস বলেন, প্রথমে রাষ্ট্র ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। এরপর করপোরেট ও এনজিও সংস্কৃতি মানুষকে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

‎কচি খন্দকার বলেন, সংস্কৃতি যখন রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই দাগ কি আমাদের গায়েও এসে লেগেছে?

‎আলোচনায় আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি। কী লেখা যাবে আর কী লেখা যাবে না, তা ভাবতেই অনেক সময় চলে যায়। আগে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাটক নিয়ে আড্ডা হতো, কিন্তু অনিশ্চয়তার কারণে এখন সেই পরিবেশও আর আগের মতো নেই। তার ভাষায়, ‘পাগল হয়ে যাওয়া কেবল বাকি আছে।’

‎মূল প্রবন্ধে তৌকীর আহমেদ দেশের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার নানা দিক তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়।

‎আলোচনায় আরও অংশ নেন আশীষ খন্দকার, ঠাণ্ডু রায়হান, আলোক বসু, অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক, অপূর্ব কুমার কুণ্ডু ও ড. ইসলাম শফিকসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


‎সংস্কৃতিচর্চায় ভীতি ও বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎দেশের সাংস্কৃতিক চর্চায় ভীতির পরিবেশ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিককর্মীরা। তাদের মতে, লোকজ সংস্কৃতির চর্চা সংকুচিত হচ্ছে এবং গণমানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির দূরত্ব বাড়ছে। সংস্কৃতির বিকাশ ও সমাজের অস্থিরতা দূর করতে এ পরিস্থিতির উত্তরণ জরুরি বলেও মনে করেন তারা।

‎নাট্যসংগঠন ‘নাট্যকেন্দ্র’র তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা বক্তারা এসব কথা বলেন। রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

‎এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৌকীর আহমেদ। প্রবন্ধটি উপস্থাপনা করেন সংগীতা চৌধুরী। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য ইকবাল বাবু।

‎আলোচনায় অংশ নিয়ে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, সরকারের অবস্থান থেকে সংস্কৃতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করা যায় না; এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গেও নয়।

তিনি বলেন, সমাজ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, অথচ সেখানে সংস্কৃতির আলো পৌঁছাচ্ছে না। নাচ, গান ও কবিতার বহিঃপ্রকাশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লেখকদের হিন্দু-মুসলমান পরিচয়ে বিভক্ত করা হচ্ছে। কে বাংলাদেশি, আর কে ভিনদেশি, সেই বিভাজনও তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির উত্তরণ জরুরি।

‎মোহাম্মদ বারী বলেন, দেশ ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের ঘটনাও তাদের প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের কেবল ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।

‎নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, ইউনূসের সময়েও মবের বিরুদ্ধে থিয়েটারের মানুষেরা প্রতিবাদ করেছে। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপন করা হয়েছে, কিন্তু আরেকজন রিকশাচালক পানি এনে সেই মুখ পরিষ্কার করেছেন। কুষ্টিয়ায় হারমোনিয়াম বাজছে, গানও হচ্ছে; তবে এখন অনেক ক্ষেত্রে গোপনে। তাই সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বা এর চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটা বলা যায় না।

‎বাবুল বিশ্বাস বলেন, প্রথমে রাষ্ট্র ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। এরপর করপোরেট ও এনজিও সংস্কৃতি মানুষকে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

‎কচি খন্দকার বলেন, সংস্কৃতি যখন রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতির বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালিমা লেপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই দাগ কি আমাদের গায়েও এসে লেগেছে?

‎আলোচনায় আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি। কী লেখা যাবে আর কী লেখা যাবে না, তা ভাবতেই অনেক সময় চলে যায়। আগে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাটক নিয়ে আড্ডা হতো, কিন্তু অনিশ্চয়তার কারণে এখন সেই পরিবেশও আর আগের মতো নেই। তার ভাষায়, ‘পাগল হয়ে যাওয়া কেবল বাকি আছে।’

‎মূল প্রবন্ধে তৌকীর আহমেদ দেশের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার নানা দিক তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়।

‎আলোচনায় আরও অংশ নেন আশীষ খন্দকার, ঠাণ্ডু রায়হান, আলোক বসু, অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক, অপূর্ব কুমার কুণ্ডু ও ড. ইসলাম শফিকসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত