ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে লিসবনে বিক্ষোভ



বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে লিসবনে বিক্ষোভ
বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে লিসবনে বিক্ষোভ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি ও আবাসন সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সমবেত হন তারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘নাও দ্য মাইস পারা ভিভার আসিম’ নামে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। পর্তুগিজ ভাষার এ স্লোগানের অর্থ, ‘এভাবে আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়’। প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে প্রায় ৪০টি নাগরিক সংগঠন যুক্ত রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবার, তরুণ, শিক্ষার্থী এবং অভিবাসীরা আবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, অনেক কর্মজীবী মানুষকে মাসিক আয়ের বড় অংশ বাড়িভাড়ার পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে খাবার, যাতায়াত, চিকিৎসাসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিক্ষোভকারীদের মতে, আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার। একে শুধু বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী বাড়িভাড়া নিশ্চিত করা, সরকারি আবাসনের সংখ্যা বাড়ানো, ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

এমন এক সময়ে এ বিক্ষোভ হলো, যখন পর্তুগালে আবাসননীতি ও বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক চলছে। বাড়ির মালিকদের ভাড়ার বাজারে উৎসাহিত করা এবং আবাসনের সরবরাহ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে সরকারপক্ষ। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে নতুন আইনি পরিবর্তন সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

লিসবনের পাশাপাশি পর্তুগালের আরও চারটি শহরে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হয়েছে। এতে দেশটিতে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং মানুষের আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভকারীরা সংকট মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের এই আন্দোলন দেশটির আবাসননীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে লিসবনে বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি ও আবাসন সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সমবেত হন তারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘নাও দ্য মাইস পারা ভিভার আসিম’ নামে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। পর্তুগিজ ভাষার এ স্লোগানের অর্থ, ‘এভাবে আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়’। প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে প্রায় ৪০টি নাগরিক সংগঠন যুক্ত রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবার, তরুণ, শিক্ষার্থী এবং অভিবাসীরা আবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, অনেক কর্মজীবী মানুষকে মাসিক আয়ের বড় অংশ বাড়িভাড়ার পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে খাবার, যাতায়াত, চিকিৎসাসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিক্ষোভকারীদের মতে, আবাসন মানুষের মৌলিক অধিকার। একে শুধু বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী বাড়িভাড়া নিশ্চিত করা, সরকারি আবাসনের সংখ্যা বাড়ানো, ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

এমন এক সময়ে এ বিক্ষোভ হলো, যখন পর্তুগালে আবাসননীতি ও বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক চলছে। বাড়ির মালিকদের ভাড়ার বাজারে উৎসাহিত করা এবং আবাসনের সরবরাহ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে সরকারপক্ষ। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে নতুন আইনি পরিবর্তন সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

লিসবনের পাশাপাশি পর্তুগালের আরও চারটি শহরে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হয়েছে। এতে দেশটিতে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং মানুষের আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভকারীরা সংকট মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের এই আন্দোলন দেশটির আবাসননীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত