দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী বাতাস আর প্রবল বৃষ্টিপাত নিয়ে আছড়ে পড়েছে প্রলয়ংকরী হারিকেন ইসাইয়াস। ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ঝড়ের তীব্রতায় অগণিত গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ভেঙে পড়েছে বহু ঘরবাড়ির ছাদ। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।
সার্বিক পরিস্থিতি বিচারে আলাবামা, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ফ্লোরিডা এবং আলাবামা—এই দুই অঙ্গরাজ্যে দুজন করে মোট চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ফ্লোরিডার এসকাম্বিয়া কাউন্টিতে ঝড়ের তীব্রতায় উপড়ে পড়া গাছ সোজা একটি বসতবাড়ির ওপর ভেঙে পড়লে এক নারীর করুণ মৃত্যু হয়। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে ঘরের বাইরে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলে ঘরে ফেরার পরপরই চাল ভেদ করে গাছ পড়ে আটকে যান এক দম্পতি। স্বামী কোনোক্রমে বের হতে পারলেও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্ত্রী। এ ছাড়া ঝড়-পরবর্তী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে বন্ধ গ্যারেজে সঠিকভাবে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছাড়া জেনারেটর চালাতে গিয়ে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি মারা যান এবং একই ঘরের আরও চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ছাড়া আলাবামা রাজ্যেও গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
ঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল, যেখানে আটকে পড়া অনেক যানচালককে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে উদ্ধার করতে হয়েছে। একটি ডুবে যাওয়া ট্রাক থেকে আরোহীদের সাঁতরে গিয়ে উদ্ধার করেন ফ্লোরিডা ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস বন্যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আলাবামার গভর্নর কেই আইভি নিশ্চিত করেছেন যে রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা এখনো মারাত্মক স্পিনঅফ টর্নেডোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে, ‘ট্র্যাকার পাওয়ার-আউটপ্লাগ’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল পর্যন্ত একাধিক অঙ্গরাজ্যের অন্তত ছয় লাখের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রাত কাটাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে তাণ্ডব চালিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসাইয়াস কিছুটা দুর্বল হয়ে পোস্ট-ট্রপিকাল সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি এখনো ক্যারোলিনা ও জর্জিয়ায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে। সমুদ্রের জোয়ার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাউথ ক্যারোলিনার চার্লসটনে স্থানীয়দের রাতের বেলা ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
প্রশান্ত মহাসাগরেও একই সময়ে একাধিক ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। মেক্সিকো উপকূলে ক্যাটাগরি চার মাত্রায় শক্তিশালী রূপ নিয়ে হারিকেন ‘সাইমন’ আঘাত হানার অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি ট্রপিকাল স্টর্ম ‘র্যাচেল’ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সাধারণত এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম শুরু হতে কিছুটা দেরি হলেও ইসাইয়াসের এই ধ্বংসাত্মক রূপ চলতি মৌসুমের প্রথম আঘাত হিসেবে সমগ্র অঞ্চলে এক ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে এনেছে।
সূত্র: বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি
মতামত