শারীরিক উচ্চতা মাত্র তিন ফুট, কিন্তু তার স্বপ্নের পরিধি সুবিশাল। খর্বাকৃতির কারণে জীবনের শুরুতেই নানা সামাজিক প্রতিকূলতা ও কটূক্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে আলমিনা হাসদাকে। এমনকি একসময় সার্কাসের লোকজন টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু জীবনের সব বাধা পেরিয়ে আলমিনা এখন নিজেকে গড়ে তুলছেন একজন চিকিৎসক হিসেবে যার স্বপ্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ হয়ে মানুষের দৃষ্টির আলো ফেরানো।
আলমিনার বাড়ি দিনাজপুরের টিকরামপুর গ্রামে। সে হতদরিদ্র কৃষক লক্ষ্মী হাসদা ও সুখী মূর্মুর ছোট মেয়ে। গুড়িহারী শালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর খর্বাকৃতির কারণে তার পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল। ঠিক সে সময়ই সার্কাসের দল তার মা-বাবাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আলমিনাকে তাদের কাছে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে অভাব-অনটনের মাঝেও মা-বাবা মেয়েকে সার্কাসে দিতে রাজি হননি।
আলমিনার এই অনিশ্চিত সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায় গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা। বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা সরাসরি তার বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে বোঝান এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০২৪ সালে সে আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে আলমিনা বলে, আমি লেখাপড়া করে একজন আদর্শ চক্ষু চিকিৎসক হতে চাই। মানুষের চোখের নানা সমস্যার সমাধান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
মেয়ের এমন অগ্রযাত্রায় আবেগপ্লুত বাবা লক্ষ্মী হাসদা বিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই স্কুলটা যদি না থাকত, তবে আজকে আমার বেটির লেখাপড়া হতো না। হয়তো তাকে সার্কাসেই যেতে হতো। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. নার্গিস খাতুন জানান, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আলমিনা অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার অদম্য ইচ্ছা ও পরিশ্রম ভবিষ্যতে তাকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দেবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
মতামত