দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন ও সুশাসনের ঘাটতি বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে; ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য তাত্ক্ষণিক সংস্কার প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক স্থিতিশীলতা পর্যালোচনায় প্রকাশিত হয়েছে যে দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন এবং সুশাসনের ঘাটতি দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের (NPL) হারের দ্রুত বৃদ্ধির প্রধান কারণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, FY২০২৩‑এ মোট NPL অনুপাত পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১.২ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
ডেটা অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট, গৃহঋণ এবং বাণিজ্যিক সেক্টরে ঋণ ডিফল্টের হার বিশেষভাবে বেশি, যেখানে বেশিরভাগ ব্যাংক এখনও পুরনো ক্রেডিট স্কোরিং মডেল এবং অপর্যাপ্ত অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তদুপরি, বোর্ডের তত্ত্বাবধানের অভাব এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতির অমীমাংসিত বাস্তবায়নও সমস্যার মূল অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর উল্লেখ করেন, "ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় কঠোর মূল্যায়ন, স্বচ্ছ নীতি এবং বোর্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।" তিনি তৎক্ষণাৎ স্ট্রেস টেস্টিং বাধ্যতামূলক করা, অভ্যন্তরীণ অডিটের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি এবং ঋণ অনুমোদনের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।
গত দশকে খেলাপি ঋণ সমস্যার মোকাবেলায় বিভিন্ন রূপান্তরমূলক নীতি চালু করা হলেও, বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা পুনরায় সমস্যার সূত্রপাত করেছে। বিশেষত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (SME) ঋণ পোর্টফোলিওতে ঝুঁকি সঠিকভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় মোট NPL অনুপাতের ওপর প্রভাব পড়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ব্যাংকগুলো দ্রুত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং শাসন কাঠামো শক্তিশালী করে, তবে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে NPL অনুপাতের হ্রাস এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। এ ধরনের সংস্কার কেবল ব্যাংকিং সেক্টরের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত