ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

এক ছাদের নিচে ইন-হাউস সেপারেশন বাস্তবতা: কীভাবে কাজ করে



এক ছাদের নিচে ইন-হাউস সেপারেশন বাস্তবতা: কীভাবে কাজ করে
এক ছাদের নিচে ইন-হাউস সেপারেশন বাস্তবতা: কীভাবে কাজ করে
ইন-হাউস সেপারেশন পাইলট প্রকল্প ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু, একই ছাদের নিচে দম্পতিকে আইনি ও আর্থিকভাবে পৃথকভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়।
ঢাকা শহরে গত সপ্তাহে সরকার এক নতুন পারিবারিক আইনি পদ্ধতি চালু করেছে, যার নাম 'ইন-হাউস সেপারেশন'। এই পদ্ধতি অনুসারে দম্পতি একই ছাদের নিচে বসবাস করতে পারে, তবে আর্থিক, সম্পত্তি ও আইনি দিক থেকে পৃথকভাবে পরিচালনা করতে পারবে। মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থা প্রথমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম দু'টি শহরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দম্পতি দুজনের স্বেচ্ছাসেবী সম্মতি, ন্যূনতম এক বছরের যৌথ বাসস্থান, এবং পারস্পরিক আর্থিক দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন প্রয়োজন। আবেদনকারীকে আদালতে লিখিত অনুরোধ জমা দিতে হবে, যেখানে পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন ও সন্তান সংরক্ষণ পরিকল্পনা উল্লেখ থাকবে। আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পদ্ধতি দ্রুত বিচ্ছেদের জটিলতা কমিয়ে দম্পতিকে সামাজিক চাপ থেকে রক্ষা করতে পারে। ইন-হাউস সেপারেশন উদ্যোগের পেছনে বাড়তে থাকা বিবাহবিচ্ছেদ হার এবং সামাজিক পরিবর্তনের চাহিদা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবারিক কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে। পূর্বে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি ভাগাভাগি ও সন্তান হেফাজত নিয়ে দীর্ঘকালীন আইনি লড়াই দেখা গিয়েছিল; নতুন পদ্ধতি এই সমস্যাগুলোকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তৈরি। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইন-হাউস সেপারেশন সফল হলে এটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রসারিত হবে এবং সামাজিক স্বীকৃতি পাবে। তবে বাস্তবায়নের সময় সাংস্কৃতিক বাধা, আইনগত জটিলতা ও সচেতনতামূলক প্রয়োজনীয়তা মোকাবেলা করতে হবে। সরকার ভবিষ্যতে নীতি সমন্বয় ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

বিষয় : ইন-হাউস সেপারেশন পারিবারিক আইন বিবাহ বিচ্ছেদ এক ছাদের নিচে বাংলাদেশ সামাজিক সংস্কার আইনি প্রক্রিয়া পরিবারিক জীবন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


এক ছাদের নিচে ইন-হাউস সেপারেশন বাস্তবতা: কীভাবে কাজ করে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ইন-হাউস সেপারেশন পাইলট প্রকল্প ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু, একই ছাদের নিচে দম্পতিকে আইনি ও আর্থিকভাবে পৃথকভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়।
ঢাকা শহরে গত সপ্তাহে সরকার এক নতুন পারিবারিক আইনি পদ্ধতি চালু করেছে, যার নাম 'ইন-হাউস সেপারেশন'। এই পদ্ধতি অনুসারে দম্পতি একই ছাদের নিচে বসবাস করতে পারে, তবে আর্থিক, সম্পত্তি ও আইনি দিক থেকে পৃথকভাবে পরিচালনা করতে পারবে। মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থা প্রথমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম দু'টি শহরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দম্পতি দুজনের স্বেচ্ছাসেবী সম্মতি, ন্যূনতম এক বছরের যৌথ বাসস্থান, এবং পারস্পরিক আর্থিক দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন প্রয়োজন। আবেদনকারীকে আদালতে লিখিত অনুরোধ জমা দিতে হবে, যেখানে পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন ও সন্তান সংরক্ষণ পরিকল্পনা উল্লেখ থাকবে। আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পদ্ধতি দ্রুত বিচ্ছেদের জটিলতা কমিয়ে দম্পতিকে সামাজিক চাপ থেকে রক্ষা করতে পারে। ইন-হাউস সেপারেশন উদ্যোগের পেছনে বাড়তে থাকা বিবাহবিচ্ছেদ হার এবং সামাজিক পরিবর্তনের চাহিদা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবারিক কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে। পূর্বে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি ভাগাভাগি ও সন্তান হেফাজত নিয়ে দীর্ঘকালীন আইনি লড়াই দেখা গিয়েছিল; নতুন পদ্ধতি এই সমস্যাগুলোকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তৈরি। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইন-হাউস সেপারেশন সফল হলে এটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রসারিত হবে এবং সামাজিক স্বীকৃতি পাবে। তবে বাস্তবায়নের সময় সাংস্কৃতিক বাধা, আইনগত জটিলতা ও সচেতনতামূলক প্রয়োজনীয়তা মোকাবেলা করতে হবে। সরকার ভবিষ্যতে নীতি সমন্বয় ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত