আইসিএল সার্জারি, চশমার বিকল্প হিসেবে, নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে, রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি আইসিএল (ইমপ্ল্যান্টেবল কোলামার লেন্স) সার্জারিকে চশমার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকায় মায়োপিয়া (দূরদৃষ্টি) রোগীদের জন্য লেন্স ইমপ্ল্যান্টের মানদণ্ড, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং অনুমোদিত হাসপাতালের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইসিএল সার্জারি হল একধরনের লেন্স ইমপ্ল্যান্ট, যা চোখের ভেতরে স্থাপন করা হয় এবং প্রাকৃতিক দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার করে। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং রোগীকে সার্জারির পর তৎক্ষণাৎ দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়। চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্সের তুলনায় আইসিএল লেন্স শারীরিকভাবে চোখের স্বাভাবিক গঠনকে পরিবর্তন করে না, ফলে দীর্ঘমেয়াদে আরামদায়ক ব্যবহার সম্ভব।
ডাক্তাররা উল্লেখ করেছেন যে, যদিও আইসিএল সার্জারি নিরাপদ, তবুও কিছু ঝুঁকি রয়েছে, যেমন ইনফেকশন, লেন্সের স্থানচ্যুতি এবং চোখের চাপ বৃদ্ধি। সুতরাং, রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চোখের পরীক্ষা ও রেটিনার মূল্যায়ন করা আবশ্যক। বর্তমান বাজারে আইসিএল সার্জারির খরচ প্রায় ১,৫০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা, যা চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্সের দীর্ঘমেয়াদী ব্যয়ের তুলনায় সমান বা কিছুটা বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্সে অসন্তোষের ক্ষেত্রে বা উচ্চ মায়োপিয়া রোগীদের জন্য আইসিএল সার্জারি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রোগীর সম্পূর্ণ মেডিক্যাল ইতিহাস, আর্থিক সক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ বিবেচনা করা উচিত। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে এই পদ্ধতির নিরাপত্তা ও সাশ্রয়িতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত