স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু রোধে প্রচলিত অভিযান ছাড়িয়ে নতুন কৌশল প্রয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে ভিত্তিক।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগের হঠাৎ বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হওয়ায় প্রচলিত অভিযানের পাশাপাশি নতুন কৌশল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এই ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে যাতে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
সাম্প্রতিক মাসে রোগের সংক্রমণ সংখ্যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত নগর ও উপশহর এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে সীমিত সাফল্য দেখা গেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, শুধুমাত্র স্প্রে ও পোকামাকড়ের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল প্রচলিত পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয় এবং নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
পূর্বে চালানো অভিযানগুলো প্রধানত অস্থায়ী স্প্রে, জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন এবং ড্রেন পরিষ্কারের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে এই পদ্ধতিগুলো মশার প্রজননস্থল সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে রোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং নগরায়নের দ্রুত গতি মশার বংশবৃদ্ধি সহজতর করেছে।
নতুন কৌশলের মধ্যে সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ (যেমন ব্যাকটেরিয়া ভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ), ডেটা-চালিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন বিজ্ঞানী উল্লেখ করেছেন যে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মশা গড়ার স্থান রিয়েল-টাইমে রিপোর্ট করা যাবে, যা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে।
মন্ত্রণালয় আগামী মাসের শেষের দিকে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের লক্ষ্য রাখছে, যেখানে স্থানীয় সরকার, এনজিও এবং নাগরিকদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে। এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার কমিয়ে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
মতামত