দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে দেশে ১৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৩৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ হাজার ৫০১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার।
বিপিএম৬ হলো আইএমএফের নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি, যার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের তুলনামূলক আন্তর্জাতিক হিসাব করা হয়।
অক্টোবরে ১৪ দিনে রেমিট্যান্স ১৫১ কোটি ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ১৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা।
গত বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর এক দিনেই দেশে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।
অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ১৩.১ শতাংশ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।
এর আগে সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগস্টে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রবাসী আয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, গত অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থান মূল্যায়নে মোট রিজার্ভের পাশাপাশি আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
মতামত