বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেজ্ঞরা। এতে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় শতভাগ চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নগরের আগ্রাবাদে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘উন্নত বিশ্বের জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইইটি পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। বিএসটিআই চট্টগ্রামের অফিস প্রধান ও উপপরিচালক (মেট্রোলজি) মো. মোমেন উস সাজ্জাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম, বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এসএম নাজের হোসেন।
বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সিএম) শিমু বিশ্বাস ও ফারহানা জাহান পারুলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক (রসায়ন) ইব্রাহীম খলিল।
প্রধান অতিথি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম বলেন, বিএসটিআই কোনো অবস্থাতেই মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাড় বা আপস যেন না করে। শতভাগ গুণগতমান নিশ্চিত করেই কেবল লাইসেন্স দিতে হবে। দেশের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে আধুনিক ল্যাবরেটরিসহ নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে সেবাগ্রহীতারা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা লাভ করতে পারেন।
মূল প্রবন্ধে ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসডিজির ৭ নম্বর অভীষ্ট তথা সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন প্রকার শক্তির সংমিশ্রণ ও নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে যথাযথ মান বজায় না থাকলে কাঙিক্ষত দক্ষতা অর্জন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার অগ্রগতি হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে উন্নত মাননিয়ন্ত্রণ ও ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
বিশেষ অতিথি পাঠান মো সাইদুজ্জামান বলেন, বিএসটিআইর লোগো আমাদের আস্থার প্রতীক; তাই দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও মান নিশ্চিতকরণে ব্যবসায়ীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মোমেন উস সাজ্জাদ বলেন, পণ্যের মান বজায় রাখা শুধু ব্যবসায়িক সুবিধাই বাড়ায় না, বরং পরিবেশ সুরক্ষায় ও টেকসই অর্থনীতি গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া ভোক্তাসাধারণের সুবিধার্থে ও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে ডিজিটাল সেবা, কিউআর কোড এবং হেল্পলাইন (১৬১১৯) চালু করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আরকে
মতামত