বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নীতি উৎপাদনের বদলে জনগণের পুষ্টি গ্রহণকে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণের ঘোষণা করেছে, যা স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে।
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ - কৃষি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমাবেশে সরকার ও বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা করেছেন যে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা মাপকাঠি উৎপাদনের পরিমাণের বদলে জনগণের পুষ্টি গ্রহণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং আগামী ত্রৈমাসিক থেকে কার্যকর হবে।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা মূলত ধান, গম ও তেলজাত পণ্যের উৎপাদন পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. রেহানা হাসান উল্লেখ করেন, উৎপাদন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও গৃহস্থালীর পুষ্টিকর খাবারের অভাব অব্যাহত রয়েছে, যা শিশু ও গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। মন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়েছে, নতুন মাপকাঠি নির্ধারণে দৈনিক ক্যালোরি, প্রোটিন, ভিটামিন‑এ ও খনিজের গড় গ্রহণের পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুষ্টি নিরাপত্তা হল খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা কেবল খাবারের পরিমাণ নয়, বরং তার গুণগত মানের ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেজি‑অন‑কেজি পুষ্টি ঘাটতি, বিশেষ করে আয়রন ও ভিটামিন‑এ ঘাটতি, উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতা নতুন নীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সরকারের পরিকল্পনায় কৃষকদের জন্য পুষ্টিকর ফসলের চাষে আর্থিক সহায়তা, সেচ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে পুষ্টি সংযোজন (ফোর্টিফিকেশন) বৃদ্ধি করা অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, পুষ্টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে নিয়মিতভাবে গৃহস্থালীর পুষ্টি গ্রহণের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা নীতির কার্যকারিতা মূল্যায়নে সহায়ক হবে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করবে, রোগের হার কমাবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আগামী মাসে নীতির বিশদ রূপরেখা প্রকাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানাবে।
মতামত