ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

সিজেপির আন্দোলন ও মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ



সিজেপির আন্দোলন ও মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ
সিজেপির আন্দোলন ও মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ

ফটক টপকে যন্তরমন্তরে ঢোকার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে নয়াদিল্লির মন্দির মার্গ থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তাদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে দলটির আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। 

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো বিক্ষোভ করে আসছে। গত মঙ্গলবার আশুতোষ ও সৌরভের নেতৃত্বে ফটক টপকে যন্তরমন্তরে ঢুকে পড়েন একদল তরুণ। তারা সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং সিইসির পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। 

সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ যন্তরমন্তরকে অনুমোদিত বিক্ষোভের স্থানের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। আশুতোষ ও সৌরভের আইনজীবী অভীষ্ট হেলা সাংবাদিকদের জানান, কয়েক দিন আগে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্ত হওয়ার সময় দেওয়া অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করার অভিযোগে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। 

স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েই ছাড়ব: অজিঙ্ক শিন্ডে 

মুক্তি পেয়ে অজিঙ্ক শিন্ডে জানিয়েছেন, নেতাদের কারাদণ্ড দিলেই তাদের আন্দোলন থমকে যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েই ছাড়ব।’ 

আশুতোষ ও সৌরভের জেল হেফাজতের খবর পেয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে এক বার্তায় বলেন, ‘ওদের কী অপরাধ? ওরা তো যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে? প্রধানমন্ত্রীজি, একটু সাহস দেখান। এভাবে ভিন্নমত দমানোর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে বরং জরুরি অবস্থা জারি করে দিন। কাপুরুষের মতো কৌশলের আড়ালে লুকানোর দরকার নেই।’ 

সিজেপির আন্দোলন ও মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ 

তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনটি বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির টানা ১২ বছরের শাসনকালের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে গত জুলাইয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মোদির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সেই সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই যন্তরমন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন হাজার হাজার তরুণ। এবারও সিইসির পদত্যাগ দাবিতে তাদের এই আন্দোলন সাড়া ফেলেছে।

গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর সিইসির পদত্যাগ দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অনেকবার সিইসির কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে গুরুত্ব দেননি। এই ভোটার তালিকা সংশোধনে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। 

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এর এক পর্যায়ে এই দাবি নিয়ে মাঠে নামে সিজেপি। 

প্রথমবার পাশে রাহুল গান্ধী, একজোটে পুরো বিরোধী শিবির 

দ্য প্রিন্টের খবর অনুসারে, সিজেপির দুই তরুণ নেতার গ্রেপ্তারের পর তাদের সমর্থনে প্রথমবারের মতো সরাসরি এগিয়ে এসেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এটি সিজেপির জন্মলগ্ন থেকে তাদের প্রতি রাহুলের প্রথম প্রত্যক্ষ সমর্থন। 

এক্সে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘নিজের দেশের যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো সরকারের কাপুরুষতার পরিচয়। শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোটের পতাকা আলাদা হলেও আমাদের লক্ষ্য এক। যন্তরমন্তর ভারতের সাধারণ মানুষের, আমরা এটি ফেরত আনবই।’ 

এ ছাড়া আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রও এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সিজেপির আন্দোলন ও মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফটক টপকে যন্তরমন্তরে ঢোকার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে নয়াদিল্লির মন্দির মার্গ থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তাদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে দলটির আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। 

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো বিক্ষোভ করে আসছে। গত মঙ্গলবার আশুতোষ ও সৌরভের নেতৃত্বে ফটক টপকে যন্তরমন্তরে ঢুকে পড়েন একদল তরুণ। তারা সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং সিইসির পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। 

সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ যন্তরমন্তরকে অনুমোদিত বিক্ষোভের স্থানের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। আশুতোষ ও সৌরভের আইনজীবী অভীষ্ট হেলা সাংবাদিকদের জানান, কয়েক দিন আগে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্ত হওয়ার সময় দেওয়া অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করার অভিযোগে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। 

স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েই ছাড়ব: অজিঙ্ক শিন্ডে 

মুক্তি পেয়ে অজিঙ্ক শিন্ডে জানিয়েছেন, নেতাদের কারাদণ্ড দিলেই তাদের আন্দোলন থমকে যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়েই ছাড়ব।’ 

আশুতোষ ও সৌরভের জেল হেফাজতের খবর পেয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে এক বার্তায় বলেন, ‘ওদের কী অপরাধ? ওরা তো যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে? প্রধানমন্ত্রীজি, একটু সাহস দেখান। এভাবে ভিন্নমত দমানোর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে বরং জরুরি অবস্থা জারি করে দিন। কাপুরুষের মতো কৌশলের আড়ালে লুকানোর দরকার নেই।’ 

সিজেপির আন্দোলন ও মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ 

তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনটি বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির টানা ১২ বছরের শাসনকালের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে গত জুলাইয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মোদির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সেই সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই যন্তরমন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন হাজার হাজার তরুণ। এবারও সিইসির পদত্যাগ দাবিতে তাদের এই আন্দোলন সাড়া ফেলেছে।

গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর সিইসির পদত্যাগ দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অনেকবার সিইসির কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে গুরুত্ব দেননি। এই ভোটার তালিকা সংশোধনে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। 

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এর এক পর্যায়ে এই দাবি নিয়ে মাঠে নামে সিজেপি। 

প্রথমবার পাশে রাহুল গান্ধী, একজোটে পুরো বিরোধী শিবির 

দ্য প্রিন্টের খবর অনুসারে, সিজেপির দুই তরুণ নেতার গ্রেপ্তারের পর তাদের সমর্থনে প্রথমবারের মতো সরাসরি এগিয়ে এসেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এটি সিজেপির জন্মলগ্ন থেকে তাদের প্রতি রাহুলের প্রথম প্রত্যক্ষ সমর্থন। 

এক্সে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘নিজের দেশের যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো সরকারের কাপুরুষতার পরিচয়। শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোটের পতাকা আলাদা হলেও আমাদের লক্ষ্য এক। যন্তরমন্তর ভারতের সাধারণ মানুষের, আমরা এটি ফেরত আনবই।’ 

এ ছাড়া আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রও এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত