পবিত্র কোরআনের ষষ্ঠ সুরা হলো সুরা আনআম (سورة الأنعام)। ‘আনআম’ শব্দের অর্থ গবাদিপশু। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায় তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ), রিসালাত, আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম এবং সৃষ্টির নিখিল রহস্য নিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত আলোচনা রয়েছে। ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ বা রুকু এবং ১৬৫টি আয়াতবিশিষ্ট এই মহান সুরাটি মুসলমানদের ইমানি চেতনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
পবিত্র কোরআনের এই মাক্কি সুরাটিতে মানবজীবনের মৌলিক কিছু নীতি ও নির্দেশনাবলি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বয়ান করা হয়েছে:
এই সুরার ১৫১ থেকে ১৫৩ নম্বর আয়াতে সামাজিক ও ব্যক্তিক জীবনের ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আদেশ ও নিষেধ রয়েছে:
আল্লাহ তাআলা বিশ্বজগতের বৈচিত্র্য বর্ণনা করে বলেছেন—তিনিই ভোর উন্মেষ ঘটান, রাতের আঁধারকে বিশ্রামের জন্য এবং সূর্য ও চন্দ্রকে সময়ের গণনার জন্য সুবিন্যস্ত করেছেন। পাশাপাশি ডাঙা ও সমুদ্রের অন্ধকার রাতে নক্ষত্রের সাহায্যে পথ চেনার নিদর্শনও তিনি মানুষদের দেখিয়েছেন।
সুরা আনআম আমাদের শিক্ষা দেয়—সংখ্যালঘিষ্ঠ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সত্য নির্ধারিত হয় না। আল্লাহ বলেন, যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের অনুগামী হও, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। কারণ, তারা কেবল ধারণার ওপর নির্ভর করে।
সুরার শেষ আয়াতে মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে—আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি (খলিফা) বানিয়েছেন এবং কাউকে কারও ওপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য।
সুরা আনআম মুমিনের জীবনদর্শনের এক অনন্য গাইডলাইন। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে শিরক ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর একত্ববাদের ওপর অবিচল থাকতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে এই সুরার শিক্ষা অনুধাবন করা ও তিলাওয়াত করা আমাদের ইমানকে শাণিত ও জীবনকে বরকতময় করে তোলে।
মতামত