ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

সব দোয়ার উত্তর কি আমরা যেভাবে চাই, সেভাবেই আসে?



সব দোয়ার উত্তর কি আমরা যেভাবে চাই, সেভাবেই আসে?
সব দোয়ার উত্তর কি আমরা যেভাবে চাই, সেভাবেই আসে?

কখনো কখনো আমরা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন দোয়া করি। একটি চাকরি, পছন্দের মানুষ, পরিবারের সুস্থতা কিংবা জীবনের কোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাওয়ার শেষ থাকে না। কিন্তু অনেক সময় দীর্ঘদিন দোয়া করার পরও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহ কি আমার দোয়া শুনছেন?

ইসলাম শেখায়, আল্লাহর কাছে দোয়া করা কখনো অর্থহীন নয়। তবে আমরা যেভাবে এবং যখন ফল চাই, সব সময় সেভাবেই যে তা আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

আল্লাহ বলেন, তাঁর কাছে দোয়া করতে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ —সূরা গাফির, আয়াত ৬০।

এই আয়াত মানুষকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করে। নিজের প্রয়োজন, দুঃখ, ভয় কিংবা প্রত্যাশা সবকিছুই আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যায়।

দেরি হলেই কি দোয়া কবুল হয়নি? কোনো চাওয়া পূরণ হতে দেরি হলে হতাশ হয়ে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু দেরি হওয়াকে দোয়া প্রত্যাখ্যাত হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ মনে করা ঠিক নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে গুনাহের জন্য বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করে এবং তাড়াহুড়া করে। সাহাবিরা জানতে চাইলেন, তাড়াহুড়া কী? তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেউ বলতে থাকে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’ (সহিহ মুসলিম, ২৭৩৫)

এই হাদিস আমাদের ধৈর্য ধরতে এবং দোয়া চালিয়ে যেতে শেখায়।

আমরা যা চাই, সব কি আমাদের জন্য ভালো? মানুষ অনেক সময় বর্তমান পরিস্থিতি দেখে নিজের কল্যাণ নির্ধারণ করে। কিন্তু ভবিষ্যতের সবকিছু তার জানা থাকে না।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয় পছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সূরা আল-বাকারা, ২:২১৬)

এই আয়াতের শিক্ষা হলো, নিজের চাওয়া পূরণ না হলে সঙ্গে সঙ্গে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে জীবনে আর কল্যাণের কোনো পথ নেই। তবে প্রতিটি অপূর্ণ ইচ্ছার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গোপন কল্যাণ আছে এমন দাবিও করা যায় না।

দোয়ার সঙ্গে চেষ্টা ও ভরসা দোয়া মানে শুধু অপেক্ষা করা নয়। চাকরি চাইলে চেষ্টা করতে হবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে হবে, সম্পর্কের সমস্যা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজের সাধ্যের মধ্যে চেষ্টা করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা জরুরি।

দোয়া চালিয়ে যান আপনার কোনো চাওয়া এখনো পূরণ হয়নি বলে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া বন্ধ করবেন না। নিজের ভাষায় তাঁর কাছে মনের কথা বলুন, ক্ষমা চান, কল্যাণ প্রার্থনা করুন এবং সঠিক পথে থাকার তাওফিক চান।

মনে রাখবেন, দোয়া শুধু চাওয়া পূরণের মাধ্যম নয়, এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক গভীর করারও একটি পথ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


সব দোয়ার উত্তর কি আমরা যেভাবে চাই, সেভাবেই আসে?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কখনো কখনো আমরা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন দোয়া করি। একটি চাকরি, পছন্দের মানুষ, পরিবারের সুস্থতা কিংবা জীবনের কোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাওয়ার শেষ থাকে না। কিন্তু অনেক সময় দীর্ঘদিন দোয়া করার পরও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহ কি আমার দোয়া শুনছেন?

ইসলাম শেখায়, আল্লাহর কাছে দোয়া করা কখনো অর্থহীন নয়। তবে আমরা যেভাবে এবং যখন ফল চাই, সব সময় সেভাবেই যে তা আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

আল্লাহ বলেন, তাঁর কাছে দোয়া করতে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ —সূরা গাফির, আয়াত ৬০।

এই আয়াত মানুষকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করে। নিজের প্রয়োজন, দুঃখ, ভয় কিংবা প্রত্যাশা সবকিছুই আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যায়।

দেরি হলেই কি দোয়া কবুল হয়নি? কোনো চাওয়া পূরণ হতে দেরি হলে হতাশ হয়ে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু দেরি হওয়াকে দোয়া প্রত্যাখ্যাত হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ মনে করা ঠিক নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে গুনাহের জন্য বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করে এবং তাড়াহুড়া করে। সাহাবিরা জানতে চাইলেন, তাড়াহুড়া কী? তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেউ বলতে থাকে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’ (সহিহ মুসলিম, ২৭৩৫)

এই হাদিস আমাদের ধৈর্য ধরতে এবং দোয়া চালিয়ে যেতে শেখায়।

আমরা যা চাই, সব কি আমাদের জন্য ভালো? মানুষ অনেক সময় বর্তমান পরিস্থিতি দেখে নিজের কল্যাণ নির্ধারণ করে। কিন্তু ভবিষ্যতের সবকিছু তার জানা থাকে না।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয় পছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সূরা আল-বাকারা, ২:২১৬)

এই আয়াতের শিক্ষা হলো, নিজের চাওয়া পূরণ না হলে সঙ্গে সঙ্গে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে জীবনে আর কল্যাণের কোনো পথ নেই। তবে প্রতিটি অপূর্ণ ইচ্ছার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গোপন কল্যাণ আছে এমন দাবিও করা যায় না।

দোয়ার সঙ্গে চেষ্টা ও ভরসা দোয়া মানে শুধু অপেক্ষা করা নয়। চাকরি চাইলে চেষ্টা করতে হবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে হবে, সম্পর্কের সমস্যা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজের সাধ্যের মধ্যে চেষ্টা করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা জরুরি।

দোয়া চালিয়ে যান আপনার কোনো চাওয়া এখনো পূরণ হয়নি বলে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া বন্ধ করবেন না। নিজের ভাষায় তাঁর কাছে মনের কথা বলুন, ক্ষমা চান, কল্যাণ প্রার্থনা করুন এবং সঠিক পথে থাকার তাওফিক চান।

মনে রাখবেন, দোয়া শুধু চাওয়া পূরণের মাধ্যম নয়, এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক গভীর করারও একটি পথ।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত