ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

নতুন নিয়ম করেছে আইসিসি, কেন আপত্তি দলগুলোর?



নতুন নিয়ম করেছে আইসিসি, কেন আপত্তি দলগুলোর?
নতুন নিয়ম করেছে আইসিসি, কেন আপত্তি দলগুলোর?

টেস্ট ক্রিকেটে ফল নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম করেছে আইসিসি। দিনের খেলা আলোর স্বল্পতার কারণে ব্যাহত হলে দুই দল সম্মত থাকলে ফ্লাডলাইটের নিচে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্টে সেই নিয়ম কাজে লাগেনি। ডারবানের কিংসমিডে অল্প আলোয় তিন দিনই আগেভাগে খেলা বন্ধ হয়েছে, নষ্ট হয়েছে ৪৮.৪ ওভার। অথচ গোলাপি বল ব্যবহারে আগাম সম্মতি ছিল না দুই দলের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক।

কিংসমিডে মঙ্গলবার শেষ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। ২১৪ রানে জিতেছে সফরকারীরা। ২০১৮ সালের ‘স্যান্ডপেপারগেট’ কেলেঙ্কারির পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুই দলের প্রথম টেস্ট সিরিজ এমনিতেই আলোচনায় ছিল। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্বল্প আলোয় খেলা বন্ধ হওয়া এবং গোলাপি বল ব্যবহারের প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে।

আইসিসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিনের ম্যাচে কম আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হলে ফ্লাডলাইটের নিচে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে, যদি ম্যাচের আগে দুই দল এ বিষয়ে সম্মত হয়। কিংসমিডে এমন কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে গোলাপি বল ব্যবহার করা যায়নি। অথচ প্রথম তিন দিন যথাক্রমে ৬৫.৪, ৮০.৪ ও ৭৫ ওভার খেলার পর স্বল্প আলোর কারণে দিনের খেলা আগেভাগে বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে নষ্ট হয়েছে ৪৮.৪ ওভার।

কিংসমিডে টেলিভিশন ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন পোলক। তার মতে, স্বল্প আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হলে গোলাপি বল ব্যবহারে দুই দলের আগেই সম্মত হওয়া উচিত, যাতে ম্যাচের ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ফক্স স্পোর্টসকে পোলক বলেন, ‘এটা যদি ফাইনাল হতো, কিংবা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে জিততেই হতো, আর সিরিজে ১-১ সমতা থাকত, তখন অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলছে এবং আপনি তাদের বললেন, “স্বল্প আলোর কারণে আমাদের ১০০ ওভার হারাতে হবে, তাই গোলাপি বল ব্যবহার করি”-আপনার কি মনে হয়, তারা রাজি হতো, নাকি হতো না?’

পোলকের প্রশ্নের যৌক্তিকতা আছে। শেষ পর্যন্ত প্যাট কামিন্সের দল ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু ম্যাচটি যদি ড্র হতো? স্বল্প আলোর কারণে হারানো ওভারগুলোই যদি নিশ্চিত ফল পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত, তাহলে কী হতো?

বছরের পর বছর টেস্ট ক্রিকেটের আকর্ষণ কমেছে। এই সংস্করণকে প্রাণবন্ত রাখতে ম্যাচে ফল পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিংসমিডে দুই দলের মতো বড় নামের লড়াই হওয়া সত্ত্বেও দর্শক ছিল তুলনামূলক কম। গ্যালারির ফাঁকা আসন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে।

ম্যাচ চলাকালে পোলক আরও বলেছিলেন, লাল বলের তুলনায় গোলাপি বল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সুইং করে- এমন দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। দিন-রাতের টেস্ট পুরোপুরি গ্রহণ করতে দলগুলোর অনীহার পেছনে এটিও একটি কারণ হিসেবে আলোচিত হয়।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক জ্যেষ্ঠ আম্পায়ারের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘আমার ধারণা অনুযায়ী, আইসিসির নতুন নিয়মটি পরীক্ষামূলক। প্রথমত, সন্ধ্যার দিকে বল ঠিকমতো দেখা কঠিন। বল দেখার সুবিধার জন্য পিচের ধরনও নির্দিষ্ট রকমের হতে হয়। গোলাপি বলের ল্যাকার অন্য দুই ধরনের বলের তুলনায় দ্রুত উঠে যায়। ল্যাকার দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পিচে নির্দিষ্ট উচ্চতার ঘাস থাকা প্রয়োজন, সাধারণত ঘাস একটু বেশি রাখতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোলাপি বল পেসারদের বেশি সুবিধা দেয়। স্পিনারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত পিচ থেকে তারা তেমন সহায়তা পায় না। স্পিনারদের কার্যকর হতে পিচ কিছুটা শুকনো থাকা দরকার, কিন্তু তাতে আবার বলের ল্যাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেখবেন, গোলাপি বলের ম্যাচ প্রায়ই দ্রুত শেষ হয়ে যায়, অনেক সময় তিন দিনের মধ্যেই। খেলোয়াড়েরাও গোলাপি বলে স্বচ্ছন্দ নন। এটাও বাস্তবতা। তারা লাল ও সাদা বলে খেলতে অভ্যস্ত। এমনকি দিনের আলোয় সাদা বলও কখনো সমস্যা তৈরি করে; উঁচুতে উঠে গেলে উজ্জ্বল আকাশের বিপরীতে সেটি দেখতে অসুবিধা হয়।’

ওই আম্পায়ারের মতে, তাই সমমানের দলগুলোর নতুন নিয়ম গ্রহণে অনীহা থাকার কারণ বোঝা জরুরি। তিনি বলেন, ‘যখন খুব বেশি ঝুঁকি থাকে না, তখন একটি শক্তিশালী দল ও তুলনামূলক দুর্বল দল হয়তো এতে সম্মত হতে পারে। কিন্তু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট যখন গুরুত্বপূর্ণ, তখন সমমানের দলগুলো নতুন নিয়ম গ্রহণে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ জন্য তাদের পুরোপুরি দোষও দেওয়া যায় না।’

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নতুন নিয়ম করেছে আইসিসি, কেন আপত্তি দলগুলোর?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

টেস্ট ক্রিকেটে ফল নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম করেছে আইসিসি। দিনের খেলা আলোর স্বল্পতার কারণে ব্যাহত হলে দুই দল সম্মত থাকলে ফ্লাডলাইটের নিচে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্টে সেই নিয়ম কাজে লাগেনি। ডারবানের কিংসমিডে অল্প আলোয় তিন দিনই আগেভাগে খেলা বন্ধ হয়েছে, নষ্ট হয়েছে ৪৮.৪ ওভার। অথচ গোলাপি বল ব্যবহারে আগাম সম্মতি ছিল না দুই দলের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক।

কিংসমিডে মঙ্গলবার শেষ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। ২১৪ রানে জিতেছে সফরকারীরা। ২০১৮ সালের ‘স্যান্ডপেপারগেট’ কেলেঙ্কারির পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুই দলের প্রথম টেস্ট সিরিজ এমনিতেই আলোচনায় ছিল। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্বল্প আলোয় খেলা বন্ধ হওয়া এবং গোলাপি বল ব্যবহারের প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে।

আইসিসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিনের ম্যাচে কম আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হলে ফ্লাডলাইটের নিচে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে, যদি ম্যাচের আগে দুই দল এ বিষয়ে সম্মত হয়। কিংসমিডে এমন কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে গোলাপি বল ব্যবহার করা যায়নি। অথচ প্রথম তিন দিন যথাক্রমে ৬৫.৪, ৮০.৪ ও ৭৫ ওভার খেলার পর স্বল্প আলোর কারণে দিনের খেলা আগেভাগে বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে নষ্ট হয়েছে ৪৮.৪ ওভার।

কিংসমিডে টেলিভিশন ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন পোলক। তার মতে, স্বল্প আলোর কারণে খেলা ব্যাহত হলে গোলাপি বল ব্যবহারে দুই দলের আগেই সম্মত হওয়া উচিত, যাতে ম্যাচের ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ফক্স স্পোর্টসকে পোলক বলেন, ‘এটা যদি ফাইনাল হতো, কিংবা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে জিততেই হতো, আর সিরিজে ১-১ সমতা থাকত, তখন অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলছে এবং আপনি তাদের বললেন, “স্বল্প আলোর কারণে আমাদের ১০০ ওভার হারাতে হবে, তাই গোলাপি বল ব্যবহার করি”-আপনার কি মনে হয়, তারা রাজি হতো, নাকি হতো না?’

পোলকের প্রশ্নের যৌক্তিকতা আছে। শেষ পর্যন্ত প্যাট কামিন্সের দল ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু ম্যাচটি যদি ড্র হতো? স্বল্প আলোর কারণে হারানো ওভারগুলোই যদি নিশ্চিত ফল পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত, তাহলে কী হতো?

বছরের পর বছর টেস্ট ক্রিকেটের আকর্ষণ কমেছে। এই সংস্করণকে প্রাণবন্ত রাখতে ম্যাচে ফল পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিংসমিডে দুই দলের মতো বড় নামের লড়াই হওয়া সত্ত্বেও দর্শক ছিল তুলনামূলক কম। গ্যালারির ফাঁকা আসন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে।

ম্যাচ চলাকালে পোলক আরও বলেছিলেন, লাল বলের তুলনায় গোলাপি বল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সুইং করে- এমন দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। দিন-রাতের টেস্ট পুরোপুরি গ্রহণ করতে দলগুলোর অনীহার পেছনে এটিও একটি কারণ হিসেবে আলোচিত হয়।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক জ্যেষ্ঠ আম্পায়ারের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘আমার ধারণা অনুযায়ী, আইসিসির নতুন নিয়মটি পরীক্ষামূলক। প্রথমত, সন্ধ্যার দিকে বল ঠিকমতো দেখা কঠিন। বল দেখার সুবিধার জন্য পিচের ধরনও নির্দিষ্ট রকমের হতে হয়। গোলাপি বলের ল্যাকার অন্য দুই ধরনের বলের তুলনায় দ্রুত উঠে যায়। ল্যাকার দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পিচে নির্দিষ্ট উচ্চতার ঘাস থাকা প্রয়োজন, সাধারণত ঘাস একটু বেশি রাখতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোলাপি বল পেসারদের বেশি সুবিধা দেয়। স্পিনারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত পিচ থেকে তারা তেমন সহায়তা পায় না। স্পিনারদের কার্যকর হতে পিচ কিছুটা শুকনো থাকা দরকার, কিন্তু তাতে আবার বলের ল্যাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেখবেন, গোলাপি বলের ম্যাচ প্রায়ই দ্রুত শেষ হয়ে যায়, অনেক সময় তিন দিনের মধ্যেই। খেলোয়াড়েরাও গোলাপি বলে স্বচ্ছন্দ নন। এটাও বাস্তবতা। তারা লাল ও সাদা বলে খেলতে অভ্যস্ত। এমনকি দিনের আলোয় সাদা বলও কখনো সমস্যা তৈরি করে; উঁচুতে উঠে গেলে উজ্জ্বল আকাশের বিপরীতে সেটি দেখতে অসুবিধা হয়।’

ওই আম্পায়ারের মতে, তাই সমমানের দলগুলোর নতুন নিয়ম গ্রহণে অনীহা থাকার কারণ বোঝা জরুরি। তিনি বলেন, ‘যখন খুব বেশি ঝুঁকি থাকে না, তখন একটি শক্তিশালী দল ও তুলনামূলক দুর্বল দল হয়তো এতে সম্মত হতে পারে। কিন্তু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট যখন গুরুত্বপূর্ণ, তখন সমমানের দলগুলো নতুন নিয়ম গ্রহণে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ জন্য তাদের পুরোপুরি দোষও দেওয়া যায় না।’


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত