ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

৭ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন



৭ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন
৭ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন

পুরান ঢাকার চকবাজারের কাটরা মসজিদ এলাকার ‘মনসুর খান প্লাজা’য় লাগা আগুন প্রায় সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের মূল ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট একটানা কাজ করে যাচ্ছে। তবে এলাকার সরু অলিগলি, ভবনের জটিল অভ্যন্তরীণ নকশা এবং গোডাউনগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্য মালামালের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে কর্মীদের।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বহুতল ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে খবর পৌঁছানোর পর প্রথম ইউনিট ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় একে একে আরও ইউনিটকে অভিযানে যুক্ত করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে, ভবনের কসমেটিকস ও ব্যাগের একটি গোডাউন থেকে আগুনের উৎপত্তি হতে পারে। পরে তা ভবনের বিভিন্ন কম্পার্টমেন্ট এবং অন্যান্য অংশে থাকা গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, পুরান ঢাকার অত্যন্ত সংকীর্ণ রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ভারী ও বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপক গাড়িগুলো সরাসরি ভবনের কাছে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই দীর্ঘ পাইপ ও সীমিত পরিসরে পানি দিয়ে আগুন মোকাবিলার চেষ্টা করতে হচ্ছে। এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা থাকলেও গোডাউনগুলোতে থাকা বিপুল পণ্যের কারণে নিশ্চিত সময়সীমা বলা যাচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো সাধারণ নাগরিকের হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভেতরে প্রবেশ করে নির্বাপণ কাজ পরিচালনার সময় তীব্র ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী প্রাথমিকভাবে আহত হয়েছেন; তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রে দেখা গেছে, ভবনটির ষষ্ঠ তলায় মজুত থাকা সব মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে পঞ্চম তলার ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কিছুটা কম। পুরান ঢাকার দোকান ও গুদামগুলোর ঘনবিন্যাসের কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৫০ জন প্রশিক্ষিত সদস্য সরাসরি কাজ করছেন। উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রমে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ বাসিন্দারাও হাত বাড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন মানুষ একযোগে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


৭ ঘণ্টায়ও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পুরান ঢাকার চকবাজারের কাটরা মসজিদ এলাকার ‘মনসুর খান প্লাজা’য় লাগা আগুন প্রায় সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের মূল ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট একটানা কাজ করে যাচ্ছে। তবে এলাকার সরু অলিগলি, ভবনের জটিল অভ্যন্তরীণ নকশা এবং গোডাউনগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্য মালামালের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে কর্মীদের।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বহুতল ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে খবর পৌঁছানোর পর প্রথম ইউনিট ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় একে একে আরও ইউনিটকে অভিযানে যুক্ত করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে, ভবনের কসমেটিকস ও ব্যাগের একটি গোডাউন থেকে আগুনের উৎপত্তি হতে পারে। পরে তা ভবনের বিভিন্ন কম্পার্টমেন্ট এবং অন্যান্য অংশে থাকা গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, পুরান ঢাকার অত্যন্ত সংকীর্ণ রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ভারী ও বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপক গাড়িগুলো সরাসরি ভবনের কাছে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই দীর্ঘ পাইপ ও সীমিত পরিসরে পানি দিয়ে আগুন মোকাবিলার চেষ্টা করতে হচ্ছে। এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা থাকলেও গোডাউনগুলোতে থাকা বিপুল পণ্যের কারণে নিশ্চিত সময়সীমা বলা যাচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো সাধারণ নাগরিকের হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভেতরে প্রবেশ করে নির্বাপণ কাজ পরিচালনার সময় তীব্র ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী প্রাথমিকভাবে আহত হয়েছেন; তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রে দেখা গেছে, ভবনটির ষষ্ঠ তলায় মজুত থাকা সব মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে পঞ্চম তলার ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কিছুটা কম। পুরান ঢাকার দোকান ও গুদামগুলোর ঘনবিন্যাসের কারণে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৫০ জন প্রশিক্ষিত সদস্য সরাসরি কাজ করছেন। উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রমে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ বাসিন্দারাও হাত বাড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন মানুষ একযোগে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত