পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ২১টি উপগ্রহ পাঠিয়েছে স্পেসএক্স। ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স ঘাঁটি থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটে এগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। উপগ্রহগুলো তৈরি করেছে নর্থরপ গ্রুম্যান।
এটি পেন্টাগনের স্পেস ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বা এসডিএর ‘ট্র্যাঞ্চ ১’ কর্মসূচির চতুর্থ তথ্য পরিবহন অভিযান। এতে ব্যবহৃত বি১১০৩ বুস্টারটি ষষ্ঠবার উড়েছে। উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া অনুকূল থাকার সম্ভাবনা ছিল ৮০ শতাংশ।
ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ও পরিচালিত ফ্যালকন ৯ দুই ধাপের আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট। এটি উপগ্রহ, মালামাল ও নভোচারী মহাকাশে পাঠায়।
স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, রকেটটির উচ্চতা প্রায় ৭০ মিটার, ব্যাস ৩ দশমিক ৭ মিটার। জ্বালানিসহ উৎক্ষেপণকালীন ভর প্রায় ৫৪৯ টন। নিম্ন পৃথিবীকক্ষপথে এটি সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৮০০ কিলোগ্রাম বহন করতে পারে। তবে অভিযানের ধরন ও বুস্টার ফেরত আনা হবে কি না, তার ওপর প্রকৃত বহনক্ষমতা নির্ভর করে।
প্রথম ধাপের নয়টি মার্লিন ইঞ্জিন তরল অক্সিজেন ও রকেটের উপযোগী কেরোসিন ব্যবহার করে। এই ধাপ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণপাখনা ও অবতরণপায়ের সাহায্যে বুস্টারটি খাড়াভাবে নামতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপের একটি মার্লিন ভ্যাকুয়াম ইঞ্জিন উপগ্রহ বা মালামাল নির্ধারিত কক্ষপথের দিকে নিয়ে যায়। প্রয়োজনে ইঞ্জিনটি একাধিকবার চালু করা যায়।
কার্বন কম্পোজিটের তৈরি আবরণ উৎক্ষেপণের সময় মালামালকে তাপ ও বায়ুর চাপ থেকে রক্ষা করে। আবরণটিও পুনর্ব্যবহারের জন্য উদ্ধার করা হয়।
ফ্যালকন ৯ নিয়মিত স্টারলিংকসহ বিভিন্ন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে। ড্রাগন মহাকাশযানে মালামাল ও নভোচারী পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রমেও সহায়তা করে।
উদ্ধার করা বুস্টার পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের পর আবার ব্যবহার করা হয়। এতে প্রতিবার নতুন বুস্টার তৈরির প্রয়োজন কমে। উৎক্ষেপণের সামগ্রিক ব্যয়ও কমতে পারে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে