১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের ওপর এক ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। দেশটিতে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটার যেকোনো সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে যায় এবং পাকিস্তানকে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পথে ঠেলে দেওয়া হয়। অত্যন্ত বেপরোয়া এক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা দেশে সামরিক আইন জারি করেন। সংবিধান বাতিল করেন এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। সব ধরনের রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান—উভয় অংশেই বিপুল সংখ্যক রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে বিদায় জানানোর এই পরিকল্পনায় প্রেসিডেন্ট মির্জা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খানের সঙ্গে আঁতাত করেছিলেন। আইয়ুব পরবর্তীকালে তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছিলেন যে, ১৯৫৪ সালেই—যখন তিনি একইসাথে সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন—ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা তাঁর রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মির্জা ও আইয়ুব—উভয়েই রাজনীতিবিদদের অত্যন্ত অবজ্ঞার চোখে দেখতেন। অথচ এই রাজনীতিবিদরাই পাকিস্তান সৃষ্টির সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৯৫৯ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলে প্রতিবেশী ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোর কাতারে শামিল হওয়ার সুযোগ নিশ্চিতভাবেই পেত দেশটি। কিন্তু ক্ষমতার লিপ্সু আইয়ুব ও মির্জা—কেউই চাননি যে দেশ পরিচালনার ভার রাজনীতিবিদদের হাতে থাকুক।
পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা—যাদের মধ্যে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, চৌধুরী মুহাম্মদ আলী, আইয়ুব খুহরো প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—দেশ সৃষ্টির নয় বছর পর ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানকে একটি সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিষয়টি আইয়ুব ও মির্জার কাছে কোনো গুরুত্বই পায়নি। এর আগে সমভাবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অথচ অসুস্থ গোলাম মোহাম্মদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেনারেল মির্জা। ১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এই সংবিধানে ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির আদলে পাকিস্তানের জন্য সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল।
প্রত্যাশা ছিল যে, এই সংবিধান দেশে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা করবে। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর, প্রেসিডেন্ট মির্জা নির্লজ্জভাবে সেই সংবিধানকেই লঙ্ঘন করলেন যার ভিত্তিতে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। আর এভাবেই তিনি পাকিস্তানকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিলেন। সামরিক শাসন জারির পর মির্জার পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল জেনারেল আইয়ুব খানকে ‘চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ বা প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। তবে পরিহাসের বিষয় হলো, মির্জা বুঝতে পারেননি যে আইয়ুবকে সেই শক্তিশালী পদে বসানোর মাধ্যমে তিনি আসলে নিজের ভবিষ্যৎকেই বিসর্জন দিচ্ছেন।
মির্জা ও আইয়ুব—উভয়েই স্বভাবগতভাবে ধূর্ত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চতুর আইয়ুবই জয়ী হন। এর আগে, মির্জা একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। যেখানে লারকানার এক তরুণ ও বিদেশে শিক্ষিত আইনজীবী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মির্জার ছেলে হুমায়ুন মির্জার বন্ধু এই তরুণ মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় নিয়োগ পেয়ে এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে, তিনি মির্জাকে একটি চিঠি লিখে উচ্ছ্বসিত ধন্যবাদ জানান এবং—আশ্চর্যের বিষয় হলো—তাকে জানান যে ইতিহাস প্রেসিডেন্টকে দেশের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর চেয়েও মহান ব্যক্তি হিসেবে মনে রাখবে।
সামরিক শাসন ঘোষণার পরবর্তী বিশটি দিন আইয়ুব খান অধৈর্যভাবে অতিবাহিত করেন। মির্জার সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্টতই অস্বস্তিকর ছিল। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীতে আইয়ুব ও তার সহযোগী কর্মকর্তারা যে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আঁটছিলেন, সে সম্পর্কে মির্জা ছিলেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। সেনাপ্রধানের প্রতি অনুগত জেনারেল বুরকি, কে এম শেখ, মুসা, ইয়াহিয়া খান ও অন্যান্যরা নিশ্চিত ছিলেন যে ক্ষমতার এই দ্বৈত অবস্থান চলতে পারে না এবং প্রেসিডেন্ট মির্জাকে সরে যেতেই হবে।
২৭ অক্টোবর, এই কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে—যাদের মধ্যে ইয়াহিয়াও ছিলেন—করাচিতে (তৎকালীন পাকিস্তানের রাজধানী) মির্জার সরকারি বাসভবনে পাঠানো হয় এবং বন্দুকের মুখে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। মির্জা ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদকে (যিনি এর আগে তেহরানে পাকিস্তানের দূতাবাসে কর্মরত এক ইরানি নৌ-অ্যাটাশের স্ত্রী ছিলেন) বিমানে করে কোয়েটায় নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক দিন পর তাদের লন্ডনে নির্বাসনে পাঠানো হয়। মির্জাকে আর কখনোই পাকিস্তানে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
২৭ অক্টোবর আইয়ুব খানের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চলে আসে। তিনি তখন কেবল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকই ছিলেন না, বরং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। তিনি মূলত সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তবে তাতে কিছু বেসামরিক ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তরুণ ভুট্টো দ্রুত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং আইয়ুবকে বোঝাতে সক্ষম হন যে জেনারেলের দলের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত। এটি ছিল তার সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রাথমিক ইঙ্গিত, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ভুট্টোর রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করেছিল। এদিকে, বিচারপতি মোহাম্মদ মুনিরের নেতৃত্বাধীন উচ্চতর আদালত ‘প্রয়োজনীয়তার নীতি’ দোহাই দিয়ে সামরিক আইন জারি ও আইয়ুবের ক্ষমতা দখলকে এক প্রশ্নবিদ্ধ আইনি বৈধতা প্রদান করে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই বিতর্কিত পদক্ষেপটিই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক কর্মকর্তাদের পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ করে দেয়। মুনির সেই ব্যক্তিই ছিলেন যার অধীনে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত ‘প্রয়োজনীয়তার নীতি’র ভিত্তিতে ১৯৫৪ সালে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ কর্তৃক গণপরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মৌলভি তমিজউদ্দীন খানের আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করেছিল। চার বছর পর মুনির আবারও সেই একই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। তিনি আইয়ুবের ক্ষমতা দখলকে ফরাসি ও রুশ বিপ্লবের সমতুল্য একটি বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করেন—যা আদতে কোনোভাবেই তা ছিল না।
ইস্কান্দার মির্জা ও আইয়ুব খানের ৭ অক্টোবরের সামরিক আইন জারি ছিল পাকিস্তানে ঘটতে যাওয়া এক অন্তহীন ট্র্যাজেডির পূর্বাভাস। লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে মির্জা শেষ পর্যন্ত একটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। অথচ তখনও তিনি দেশে ফেরার স্বপ্ন দেখতেন। অন্যদিকে, আইয়ুব খান পাকিস্তানকে তার পরীক্ষামূলক গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। তার শাসনামলে ১৯৫৯ সালে কুখ্যাত ‘ইলেক্টটিভ বডিস ডিসকোয়ালিফিকেশন অর্ডিন্যান্স’ (ইবিডিও) জারি করা হয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল রাজনীতিবিদদের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করা। কোনো যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শন না করেও যিনি শীঘ্রই নিজেকে ‘ফিল্ড মার্শাল’ ঘোষণা করেছিলেন। সেই জেনারেল সামরিক আইনের অধীনে পাকিস্তানের শাসনভার পরিচালনা করেন প্রথম চার বছর। ১৯৬২ সালে শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের পরই কেবল সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়েছিল—আর সেই সংবিধানের লক্ষ্য ছিল সর্বজনীন ভোটাধিকার বাতিল করে মাত্র ৮০ হাজার সদস্যের একটি ‘নির্বাচনী কলেজ’ (ইলেক্টোরাল কলেজ)-এর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতায় স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। তবে সামরিক আইনের অবসান মানেই যে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সূচনা, তা কিন্তু নয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন পুরো দশ বছরই আইয়ুব একনায়ক হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। পাকিস্তানকে একটি জাতীয় পরিষদ এবং দুটি প্রাদেশিক পরিষদ (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য) দেওয়া হয়েছিল, যার সদস্যরা ‘বেসিক ডেমোক্র্যাট’ (মৌলিক গণতন্ত্রী) হিসেবে পরিচিত ৮০ হাজার ব্যক্তির ভোটে নির্বাচিত হতেন। গভর্নর নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের হাতেই ন্যস্ত ছিল।এর ফলে জেনারেল আজম খান ও গোলাম ফারুকের মতো পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আব্দুল মোনেম খান নামের এক স্বল্পপরিচিত বাঙালি আইনজীবী ও আইয়ুব-অনুগত ব্যক্তি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিম পাকিস্তানে কালাবাগের প্রভাবশালী নবাব মালিক আমির মোহাম্মদ খান বেশ কয়েক বছর গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তার স্থলাভিষিক্ত হন জেনারেল মোহাম্মদ মুসা। যিনি ততদিনে সেনাবাহিনী প্রধানের পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে নবাব তারই এক পুত্রের হাতে নিহত হন। বেসামরিক রাজনীতিকের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় আইয়ুব খান সফলভাবে মুসলিম লীগকে ভেঙে ফেলেন এবং একটি অংশকে নিয়ে ‘কনভেনশন মুসলিম লীগ’ গঠন করেন।
ক্ষমতায় থাকাকালীন দশ বছরে আইয়ুব এমন এক বেসামরিক-সামরিক জোট বা কাঠামোর জন্ম দেন যা সানন্দে রাজনীতিকে দুর্বল করে এবং পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয়। সিভিল সার্ভিস ও গণমাধ্যমের তোষামোদকারীরা একনায়কের প্রতি তাদের আনুগত্য এমন সব উপায়ে প্রকাশ করত যা ছিল অত্যন্ত লজ্জাজনক। আইয়ুব তার স্মৃতিকথা ‘ফ্রেন্ডস নট মাস্টার্স’অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি এবং ভুট্টো—যিনি ১৯৬৩ সালে মোহাম্মদ আলী বোগরার মৃত্যুর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন—দেশকে ভারতের সাথে এক অর্থহীন যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেন।এই যুদ্ধের ফলে তার সরকারকে ১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সাথে ‘তাসখন্দ ঘোষণা’-য় স্বাক্ষর করতে হয়েছিল। উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভুট্টো এই ঘোষণার একটি ‘গোপন ধারা’ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণে শীঘ্রই সরকার থেকে ছিটকে পড়েন এবং তার পৃষ্ঠপোষকের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান শুরুর পরিকল্পনা করেন। আইয়ুব খানের ভক্তরা তাকে ‘এশীয় শার্ল দ্য গল’-এর গুণাবলিসম্পন্ন নেতা হিসেবে অভিহিত করতে পছন্দ করতেন। তার শাসনামলকে ‘উন্নয়নের দশক’ হিসেবে উদযাপন করা হতো। তবে এই উদযাপনের পাশাপাশিই দেশের উভয় অংশে তার একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বেঁধে উঠছিল। ১৯৬৯ সালের শুরুর দিকে তিনি গভীর সংকটে পড়েন। আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়ে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। এর আগে খান আবদুল ওয়ালী খান ও ভুট্টোকে গ্রেফতার করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হন।
১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ানোর বিষয়টি ছিল আইয়ুব খানের পক্ষ থেকে নেওয়া সর্বশেষ একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। ১৯৬২ সালের সংবিধান অনুযায়ী তার উত্তরসূরি হিসেবে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আবদুল জব্বার খানের কাছে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করার কথা থাকলেও তিনি তা না করে সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন। ইয়াহিয়া ক্ষমতায় এসেই পাকিস্তানে নতুন করে সামরিক শাসন জারি করেন।
ইস্কান্দার মির্জা ও আইয়ুব খান পাকিস্তানের যে ক্ষতি করেছিলেন তা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে আইয়ুব খান এমন এক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন যখন তাকে নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা ছিল না বা তার জন্য কারো কোনো শোক ছিল না। ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে লন্ডনে ইস্কান্দার মির্জা মারা যান। ইয়াহিয়া খান তাকে পাকিস্তানে সমাহিত করার অনুমতি দেননি। ফলে তার পরিবার তাকে তেহরানে সমাহিত করতে বাধ্য হয়।
পরিশেষ: ১৯৫৮ সালের অক্টোবরের পর পাকিস্তানকে আরও তিন দফা সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে—ইয়াহিয়া খান, জিয়াউল হক এবং পারভেজ মোশাররফের শাসনামলে। জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের দুই বছর পর নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেছিলেন। অন্যদিকে ইসলামাবাদের বর্তমান ক্ষমতাধর ব্যক্তি অসীম মুনির সামরিক বাহিনীর অনুমোদিত বেসামরিক সরকারের মাধ্যমে নিজেকে জেনারেল পদ থেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করিয়ে নিয়েছেন।
লেখক : রাজনীতি, কূটনীতি ও ইতিহাস বিষয়ক লেখক।