আমেরিকা থেকে এসে মায়ের দাফন করলেন বড় ছেলে, সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ছোট ছেলের
ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী নাসিমা খানকে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জানাজা শেষে তাকে সেখানে সমাহিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেন তার ছেলে উপল।
এ সময় মাকে হারানোর শূন্যতার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি তুলে ধরেন মায়ের শেষ ইচ্ছা এবং কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছোট ভাইকে ফিরে পাওয়ার আকুতির কথা।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান মসজিদে নাসিমা খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর ২টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় ছেলে উপল, আত্মীয় স্বজনসহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উপল গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার মায়ের মতো মা পৃথিবীতে কম আছে। আজ আমি যেখানে পৌঁছাইছি, আমার মা না থাকলে সেটা সম্ভব হতো না।”
মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলার স্মৃতিও তুলে ধরেন উপল। তিনি জানান, মৃত্যুর এক দিন আগে ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নাসিমা খান। তবে ভিডিও কলে চিনতে পারলেও ছেলের কথা বুঝতে পারছিলেন না তিনি।
মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপল জানান, ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে দাফন করাই ছিল মায়ের একটি ইচ্ছা। বৃহস্পতিবার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। কিন্তু তার আরেকটি ইচ্ছা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।
উপল বলেন, “মায়ের শেষ ইচ্ছে ছিলো ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে দাফন করা। সেটি তো হলোই। আরেকটি ইচ্ছে ছিলো, আমার ছোট ভাই কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ। তাকে ফিরে পাওয়াই ছিলো তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছে, যেটা এখনো পূরণ হয়নি। আমি চেষ্টা করবো, তাকে যেন ফিরে পাই।”
কিংবদন্তি অভিনেত্রী নাসিমা খানের দুই ছেলে। বড় ছেলে, ডাকনাম উপল, পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সেখানেই একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আর ছোট ছেলে নাবিল নাসির কুশল, মায়ের সঙ্গেই আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল এলাকার নিজ বাসাতে থাকতেন তিনি। গেল ফেব্রুয়ারিতে যিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
সেই সময়ে নাসিমা খান চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, কুশল সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এর আগে কখনো এমনভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিলাপ করতে করতে তিনি সেদিন বলেছিলেন,“আমার ছেলের জন্য অন্তরটা পুড়ে যাচ্ছে। সে কোথায় আছে, কার কাছে আছে, কী খাচ্ছে? সে কি কারো কাছ থেকে চেয়ে খাচ্ছে? এগুলো ভেবে আমার হৃদয়টা ফেটে যাচ্ছে! কেউ আমার ছেলেটাকে খুঁজে এনে দাও!”
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে জাগো হুয়া সাভেরা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক। পরে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি জনপ্রিয়তা পান। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। সবশেষ ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ছবি ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় দেখা যায় অভিনেত্রীকে।